দীর্ঘ ৪৭ বছরের দীর্ঘ বিরতি ও চরম বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই ঐতিহাসিক সংলাপকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। তবে আলোচনার শুরুতেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এবং বিদেশে জব্দ করা ৭ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান।
বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিলের সচিব আলি আকবর আহমাদিয়ান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেমমাতি। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা রয়েছেন। নবনির্বাচিত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং জব্দকৃত সম্পদ ফেরত না দিলে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না। ইরানের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম ডনকে বলেন, আমরা বৈরুত ও দাহিয়েতে হামলা বন্ধ করতে বাধ্য করেছি। ইসরায়েল যদি আবারও সেখানে হামলা চালায়, তবে আলোচনা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে।
ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে জেডি ভ্যান্স আলোচনার বিষয়ে মার্কিন আন্তরিকতার কথা জানালেও ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের হাতে এখন আর ‘বেশি কার্ড’ নেই। আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর তেহরানের বিধি-নিষেধের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
ওয়াশিংটন মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কড়াকড়ি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিতকরণ এবং পারমাণবিক উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চাপ দেবে। বিপরীতে ইরান পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারমাণবিক অধিকারের স্বীকৃতি এবং জব্দ করা অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবিতে অটল। আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক এবং ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে।
এই সংলাপ আয়োজনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আলোচনা সফল করতে পাকিস্তান সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে বিরোধপূর্ণ ইস্যুগুলো যে অত্যন্ত জটিল, সে কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।
/কহু