পাকিস্তান সিরিজে দলের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স খুব একটা চোখে পড়ার মতো নয় ছিল না! তারপরও আস্থার জায়গায় নড়চড় নেই বাংলাদেশ দলের নির্বাচকদের বার্তাটা স্পষ্ট। ফলাফলের চাপে হুটহাট পরিবর্তনের পথে না হেঁটে ধারাবাহিকতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। আর সেই নীতির কারণেই আবারও দলে জায়গা ধরে রাখলেন সাইফ হাসান ও আফিফ হোসেন।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য শনিবার দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এটি হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচক প্যানেলের গড়া প্রথম স্কোয়াড। ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচক হাসিবুল হোসেন, নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরী। সবশেষ সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা স্কোয়াড অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে খুব বেশি উজ্জ্বল নন সাইফ হাসান ও আফিফ হাসান, তবু তাদের ওপর আস্থা রেখেছেন নির্বাচকরা। সাইফ শেষ সিরিজে ৩ ম্যাচে করেছেন মোটে ৫২ রান; যার ৯ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে রয়েছে মাত্র একটি ফিফটি। অন্যদিকে আফিফ পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ইনিংসে করেছেন ১৪ ও অপরাজিত ৫, তার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ৩ ইনিংসে ছিল ৬৭ রান।
দলে কোনো পরিবর্তন না আনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘আমরা যখন দলটা দেখেছি, তখন মনে হয়েছে, গত সিরিজটায় আমরা সফল হয়েছিলাম। বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছে এবং সেখানে কিছু ক্রিকেটার হয়তো সুযোগ পায়নি একাদশে। কিছু ক্রিকেটার নতুন এসেছে। আমাদের পলিসি হচ্ছে, যখন কেউ আসবে তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। যারা খেলেছে, তারা খারাপ খেলেনি। আমরা ধারাবাহিকতায় বিশ্বাস করতে চাই, যার জন্য আমরা এই সিরিজে দলে বদল আনিনি।’
এই ধারাবাহিকতার নীতির কারণেই সাইফ ও আফিফের জায়গা অটুট রয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) থেকে আগামীকাল ১৩ এপ্রিল ফিরছেন দলে থাকা ক্রিকেটাররা। মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা, রিশাদ হোসেন ও তানজিদ হোসেন এই সিরিজে দলে যোগ দেবেন।
বাংলাদেশ যেখানে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে নামছে, সেখানে ভিন্ন পথে হাঁটছে নিউজিল্যান্ড। আইপিএল ও পিএসএলে ব্যস্ত ক্রিকেটারদের বাইরে রেখে তুলনামূলক দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির দল পাঠাচ্ছে তারা। তবে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রধান নির্বাচক।
এনিয়ে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের আগে কোনো বড় পরিবর্তন করতে চাই না। যদি কাউকে দেখতে হয়, তবে আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে দেখে নেব। বাংলাদেশ দলের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে ম্যাচ জেতা। জেতার জন্যই আমরা সেরা দলটি সাজাব। এর মধ্যে আমরা বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। তবে জেতার মানসিকতা স্যাক্রিফাইস করে নয়।’
সোমবার বাংলাদেশে পৌঁছাবে কিউই দল। সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়। প্রথমটি ১৭ এপ্রিল শুক্রবার, দ্বিতীয়টি ১৯ এপ্রিল রোববার।