বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিজু-বিষু বরণ

বান্দরবান প্রতিনিধি

সারাদেশ

বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক উৎসব বিজু ও বিষু বরণ করে নিয়েছেন চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা

2026-04-12T10:20:53+00:00
2026-04-12T10:20:53+00:00
 
  শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬,
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
সারাদেশ
বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিজু-বিষু বরণ
বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২০ এএম   (ভিজিট : ৫৭)
রোববার বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিজু ও বিষু বরণ করে নিয়েছেন চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষ। ছবি : সময়ের আলো
বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক উৎসব বিজু ও বিষু বরণ করে নিয়েছেন চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষ। বিশেষ করে নারীরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে এ আয়োজনে অংশ নেন।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে বালাঘাটা ঘাট এলাকায় সাঙ্গু নদীর তীরে হাজারো চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষের মুখর উপস্থিতিতে উৎসবটি উদযাপিত হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই ফুল সংগ্রহ করে কলাপাতায় সাজিয়ে নদীতীরে জড়ো হন তারা। পরে নদীতে ফুল ভাসিয়ে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে অতীতের ভুলভ্রান্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নতুন বছরের সুখ-শান্তি কামনা করেন।

উৎসব সংশ্লিষ্টরা জানান, ১২ এপ্রিল নদীতে পূজা ও ফুল নিবেদনের মাধ্যমে বিজু উৎসবের সূচনা হয়। ১৩ এপ্রিল পালিত হয় মূল বিজু, এদিন ঘরে ঘরে নানা ধরনের খাবারের আয়োজন করা হয়। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের নিমন্ত্রণ ছাড়াই একে অপরের বাড়িতে যাওয়ার রীতি থাকলেও আধুনিক সময়ে আনুষ্ঠানিক দাওয়াতের প্রচলনও বেড়েছে।

১৪ এপ্রিল তরুণ-তরুণীরা গুরুজনদের গোসল করিয়ে তাদের আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। একই দিনে ভিক্ষু-সংঘকে ‘ফাং’ (নিমন্ত্রণ) জানিয়ে ঘরের মঙ্গল কামনায় মঙ্গল সূত্র পাঠ শোনা হয়। চাকমা সম্প্রদায়ের খাবারের প্রধান আকর্ষণ ‘পাচন’ যা শতাধিক প্রকার সবজি, মাছ ও শুঁটকি দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ তরকারি।

চাকমা সম্প্রদায়ের মনিকা চাকমা বলেন, প্রতি বছরের মতো মা গঙ্গাদেবীর কাছে অতীতের ভুল-ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা চেয়ে নতুন বছরের মঙ্গল কামনায় ফুল বিজু পালন করা হয়।

সুমিতা চাকমা জানান, ভোর থেকে ফুল সংগ্রহ করে নদীতে এসে জলবুদ্ধ ও মা গঙ্গাদেবীর পূজার উদ্দেশ্যে সবাই একত্রিত হন। অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে শান্তিময় জীবনের প্রার্থনা করা হয়।

পূজারি সেমল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, যুগ যুগ ধরে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষ সাঙ্গু নদীতে ফুল বিজু ও ফুল বিষু পালন করে আসছে। আজকে মা গঙ্গাদেবীর কাছে প্রার্থনা করবো সারাবিশ্বের হানাহানি বন্ধ হয়ে সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে।


বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান জানান, বাংলা নববর্ষ ও পাহাড়িদের উৎসবকে ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবের সূচনা হয় জলবুদ্ধ ও মা গঙ্গাকে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে।

সময়ের আলো/জেডআই


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: