ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ধুমধাম করে গায়েহলুদ, নাচ-গান, প্রায় ৪০ জন বরযাত্রী ও সামাজিক-ধর্মীয় রীতি মেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিয়ে। তবে কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কাবিন বা রেজিস্ট্রি আপাতত স্থগিত রাখা হয়। কিন্তু বিয়ের পরপরই পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে এখন পুরো বিয়ের অস্তিত্বই অস্বীকার করছে কনেপক্ষ। উল্টো অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করায় গত দেড় মাস ধরে কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন রুমন খন্দকার (২০) নামে এক তরুণ কাঠমিস্ত্রি। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায়।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মে নগরকান্দার তালমা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের বিল্লাল খন্দকারের ছেলে রুমন খন্দকারের সঙ্গে ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের মিরাজ মাতুববরের ১৫ বছর বয়সী মেয়ে মিলা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর কনে বরের বাড়িতে গিয়ে সংসারও শুরু করেন। সামাজিক সেই উৎসবের ছবি ও ভিডিও ক্লিপ ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের কাছে জমা দিয়েছে রুমনের পরিবার।
রুমনের মামা হাফিজুর রহমান জানান, বিয়ের কিছুদিন পরেই কনের আচার-আচরণে পরিবর্তন আসে এবং জানা যায়, অন্য এক তরুণের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এরপরই কনে বাবার বাড়িতে চলে যায়। স্থানীয়ভাবে সালিশ-মিমাংসার মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনা হলেও সে আবারও বাপের বাড়ি গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এর প্রায় এক মাস পর, গত ২ জুলাই গভীর রাতে পুলিশ রুমনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। পরে জানা যায়, কনের দাদি জহুরন খাতুন রুমনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে দাবি করা হয়, গত ১৯ জুন বিকেলে কনে মিলাকে বাড়ির কাছ থেকে মাইক্রোবাসে অপহরণ করে রুমনদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাতভর নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে’ (ওসিসি) তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে বিয়ের অকাট্য ভিডিও ও ছবি থাকার পরও কনে ও তার পরিবার বিয়ের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করছে।
এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, হাসপাতাল ওসিসির ছাড়পত্রে ধর্ষণের কথা উল্লেখ থাকায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের সামাজিক বিয়ের কোনো আইনি বৈধতা নেই। মামলাটির তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম।
ঘটনা প্রসঙ্গে ফরিদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী মো. ফারুক হোসেন বলেন, সামাজিকভাবে বিয়ে করে সংসার করার পর অফিশিয়াল নিবন্ধনের সুযোগ নিয়ে ছেলেটিকে অমানবিক মামলার মুখোমুখি করা হয়েছে, যা চরম নৈতিক অবক্ষয়।
অন্যদিকে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, বাল্যবিয়ে ঢাকতে কাবিন না করায় কনেপক্ষ সেই সুযোগটি নিচ্ছে। এই অনৈতিক প্রক্রিয়ায় কোনো কাজী যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছেলের মুক্তি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিচার চেয়ে আকুতি জানাচ্ছে রুমনের পরিবার।
সময়ের আলো/জোই