দেশের ব্যাংক খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে বহুল আলোচিত ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬’। এই নতুন আইনের মাধ্যমে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের আগের মালিক বা শেয়ারহোল্ডারদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরফলে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে সাবেক মালিকদের মালিকানায় ফেরার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা রহিত হয়ে গেল।
রোববার (১২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের সময় বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ও অর্থনীতিবিদদের সংশয় সত্ত্বেও অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও বাজারভিত্তিক সমাধানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন আইনের ১৮(ক) ধারা অনুযায়ী, আগের মালিকরা চাইলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এজন্য তাদের বেশ কিছু শর্ত পালনের অঙ্গীকার করতে হবে- সরকারি বিনিয়োগ ফেরত; ৭.৫০ শতাংশ অর্থ নগদ জমা দিতে হবে; বাকি অর্থ পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে জমা দিতে হবে ১০ শতাংশ সরল সুদসহ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। এছাড়া সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সব আর্থিক সহায়তা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি আমানতকারীদের দায় পরিশোধ ও মূলধন ঘাটতি পূরণের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
২০২৫ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ভয়াবহ ঋণ কেলেঙ্কারি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে একটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছিল। এসব ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ একাই প্রায় ২.২৫ লাখ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিলটি পাসের সময় সংসদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন কড়া সমালোচনা করে বলেন, এই আইনের ফলে আমানতকারীদের সুরক্ষা চরমভাবে দুর্বল হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থ দিয়ে ব্যাংক রক্ষার যে প্রক্রিয়া, তা এখন বড় ঝুঁকিতে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যারা ব্যাংক ধ্বংসের জন্য দায়ী, তাদেরই আবার মালিকানায় ফিরিয়ে আনা জবাবদিহিতার পরিপন্থী। এটি ব্যাংক খাতে এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার ব্যাংক খাতে ইতোমধ্যে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। সেই টাকা তুলে আনা এবং ব্যাংকগুলোকে সচল রাখার জন্য একটি বাজারভিত্তিক সমাধান প্রয়োজন ছিল। এই আইনের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।
/কহু