দুই বছর নিষিদ্ধ এসএ গেমস স্বর্ণজয়ী মাবিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলা

দেশের ভারোত্তোলন অঙ্গনে এক বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে টানা দুবারের স্বর্ণজয়ী মাবিয়া আক্তার সীমান্তের ওপর নেমে আসা

2026-04-13T04:37:19+00:00
2026-04-13T04:37:19+00:00
 
  শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
খেলা
দুই বছর নিষিদ্ধ এসএ গেমস স্বর্ণজয়ী মাবিয়া
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩৭ এএম   (ভিজিট : ৯)
দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে টানা দুবারের স্বর্ণজয়ী মাবিয়া আক্তার। ছবি : সংগৃহীত
দেশের ভারোত্তোলন অঙ্গনে এক বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে টানা দুবারের স্বর্ণজয়ী মাবিয়া আক্তার সীমান্তের ওপর নেমে আসা নিষেধাজ্ঞা। ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া- সব ধরনের প্রতিযোগিতা থেকে এই তারকা অ্যাথলেটকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

বাংলাদেশের ভারোত্তোলনের সবচেয়ে সফল ও পরিচিত এই মুখ গত বছর ২৯ অক্টোবর ডোপ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছিলেন। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে নিয়মিত পরীক্ষার অংশ হিসেবে ঢাকায় তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। 

ল্যাবরেটরিতে সেই নমুনা নিবিড় পরীক্ষার পর নিষিদ্ধ দ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়ায় বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি (ওয়াডা) মাবিয়াকে এই শাস্তি দেয়। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে। জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ধরা হয়েছে।

২০১৬ এবং ২০১৯ এসএ গেমসে স্বর্ণ জিতে মাবিয়া বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন। বিশেষ করে ২০১৬ সালে শিলং-গুয়াহাটি গেমসে তার সেই স্বর্ণ জয়ের মুহূর্ত এবং জাতীয় সংগীত বাজার সময় কিশোরী মাবিয়ার কান্নার ছবি পুরো দেশবাসীকে আবেগে আপ্লুত করেছিল।

মাবিয়া আক্তার এই খবরের সত্যতার কথা জানিয়েছেন। তবে এই পরিস্থিতির জন্য মাবিয়া বাংলাদেশ অলিম্পক অ্যাসোসিয়েশন মনোনীত ফেডারেশনের ডাক্তারকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করেছেন। সময়ের আলোকে তিনি জানান ফেডারেশনের ডাক্তার তাকে ঠিকমতো গাইড করেননি। মাবিয়া বলেন, ‘কেন নিষিদ্ধ হয়েছি সেটা হয়তো অনেক জায়গায় ঠিকমতো আসেনি। এতে আমার কোনো দায় নেই। 

আমরা কোন ওষুধ খেতে পারব, কোনটা খেতে পারব না সেটা ডাক্তার নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা। আমাদের ফেডারেশন ডাক্তার (অলিম্পিক মনোনীত) শফিক আমাকে ঠিকমতো গাইড করেননি। আমি তার অবহেলার কারণে আজ এই বিপদে পড়েছি। আমি এলার্জি এবং হাঁটুর ব্যথার জন্য ওষুধ সেবন করেছি। 

ওষুধ সেবনের আগে ডাক্তারের কাছে প্রেসক্রিপশন পাঠিয়েছে। ওনি সেটা চেক করেননি। আমি গত বছরের ২৯ অক্টোবর অলিম্পিকের কাছে ব্লাড সেম্পল জমা দিয়ে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে অংশ নিতে সৌদি আরবের রিয়াদে যাই।’

তবে মাবিয়া চুপচাপ বসে থাকবেন না। এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করবেন তিনি, সেই সুযোগ তার রয়েছে। মাবিয়া বলেন, ‘১৪ দিনের মধ্যে যেহেতু শাস্তির বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে, আমি আমার ফেডারেশন, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বসে কীভাবে আপিল করা যায়, সেসব নিয়ে আলোচনা করব। আমি কোনো দোষ করিনি, আমি নির্দোষ।’

জানা গেছে মাবিয়ার নমুনায় ডারউইক্স জাতীয় ওষুধ পাওয়া গিয়েছিল। এই জাতীয় ওষুধ রক্তচাপ কমানো, হৃদযন্ত্রের ফেলিওর, শরীর থেকে পানি বের করার জন্য অনেক সময় চিকিৎসকরা সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে শারীরিক কারণে এটার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও ভারোত্তোলনের সঙ্গে এই ওষুধ সাংঘর্ষিক। যায় কারণে মাবিয়াকে এই শাস্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে।

সাধারণত বড় কোনো গেমসের আগে অ্যাথলেটরা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে প্রশিক্ষণে থাকেন। নিয়ম অনুযায়ী ওই সময়ে কোনো খেলোয়াড় যদি কোনো ওষুধ গ্রহণ করেন, তবে তা অলিম্পিকের দায়িত্বরত চিকিৎসককে জানানো বাধ্যতামূলক। 

মাবিয়া আক্তার এ প্রসঙ্গে দাবি করেছেন যে, তার ব্যবহৃত ওষুধের প্রেসক্রিপশনটি কর্তৃপক্ষকে দেখানো হলেও তারা সেটি যাচাই করেনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে বিদেশে অসংখ্যবার ডোপ টেস্ট করা হলেও তিনি কখনোই পজিটিভ হননি; অথচ এবার দেশের মাটিতে পরীক্ষায় তার ফলাফল পজিটিভ এসেছে।

অন্যদিকে চিকিৎসকের থেকে জানানো হয়েছে যে, অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) অধীনে হওয়া খেলাগুলোতে ‘অ্যান্টি ডোপিং এডুকেশন’ গ্রহণ করা প্রতিটি ক্রীড়াবিদের জন্য আবশ্যক। ফলে ডোপিংয়ের নিয়মকানুন সম্পর্কে তারা আগে থেকেই অবগত থাকেন। চিকিৎসকদের দাবি, বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থা বা ওয়াডার সনদপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই যথাযথ নিয়ম মেনে মাবিয়ার নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

সাফল্যের চূড়া থেকে মাবিয়ার এই পতন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য যেমন অপ্রত্যাশিত, তেমনি হতাশাজনক। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আগামী দুই বছর দেশের হয়ে কোনো প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন কালো দাগ কীভাবে মাবিয়ার আগামীর পথকে প্রভাবিত করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   নিষিদ্ধ  এসএ গেমস  স্বর্ণজয়ী  মাবিয়া 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: