রেকর্ড বইয়ে নাম লেখানোর দিনে মাঠের পারফরম্যান্সেও ফুল ফোটালেন লামিন ইয়ামাল। স্পেনের শীর্ষ লিগে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ১০০তম ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করার রাতে নিজে গোল করলেন, সতীর্থদের দিয়েও করালেন। ইয়ামালের এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিওলকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল বার্সেলোনা।
স্পোর্টিফাই ক্যাম্প ন্যুয়ে অনুষ্ঠিত কাতালান ডার্বিতে পূর্ণ আধিপত্য বজায় রেখে জয় তুলে নেয় হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান মজবুত করল ব্লাউগ্রানারা। ৩১ ম্যাচে ২৬ জয় ও এক ড্রয়ে বার্সেলোনার সংগ্রহ এখন ৭৯ পয়েন্ট। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে এস্পানিওলকে কোণঠাসা করে ফেলে বার্সেলোনা। গোল পেতেও খুব বেশি দেরি করতে হয়নি তাদের। দশম মিনিটে ইয়ামালের মাপা কর্নার থেকে চমৎকার হেডে দলকে এগিয়ে নেন ফেররান তোরেস। দীর্ঘ ১০ ম্যাচের গোলখরা কাটিয়ে ২৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটিও করেন তোরেস, যেখানে আবারও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন ইয়ামাল।
তবে ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিলেন ইয়ামাল নিজেই। ১৮ বছর ২৭২ দিন বয়সে লা লিগায় শততম ম্যাচ খেলতে নেমে তিনি ভেঙে দেন কিংবদন্তি রাউল গন্সালেসের রেকর্ড। রাউল এই মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন ১৯ বছর ২৮৪ দিন বয়সে। ইয়ামালের এই ঐতিহাসিক রাতটি পূর্ণতা পায় ম্যাচের ৮৭ মিনিটে। এক চমৎকার পাল্টা আক্রমণে এস্পানিওল গোলরক্ষকের ভুলকে কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি।
এর আগে ৫৪ মিনিটে পল লোসানো একটি গোল শোধ করে এস্পানিওলকে লড়াইয়ে ফেরানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এমনকি ৮৭ মিনিট পর্যন্ত বার্সেলোনাকে বেশ চাপে রেখেছিল তারা। তবে শেষ দিকে ৮৯ মিনিটে ইয়ামালের গোলের পর বদলি হিসেবে নামা মার্কাস র্যাশফোর্ড দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করলে বড় জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।
ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের পাস থেকে ব্যবধান ৪-১ করেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত বিশাল জয় আর পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। একদিকে ইয়ামালের রেকর্ড গড়া মাইলফলক, অন্যদিকে শিরোপার সুবাস- সব মিলিয়ে ক্যাম্প ন্যুয়ের রাতটি ছিল পুরোপুরি বার্সেলোনা সমর্থকদের।
সময়ের আলো/কেএইচও