ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য এবং আগ্রাসী অবস্থানের প্রেক্ষাপটে তাকে হোয়াইট হাউস থেকে অপসারণের দাবি জোরালো হচ্ছে। এবার সেই সারিতে যোগ দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান। তিনি সাফ জানিয়েছেন, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী—যা একজন প্রেসিডেন্টকে জোরপূর্বক অপসারণের ক্ষমতা দেয়- তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই লেখা হয়েছিল।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে সিআইএ-র নেতৃত্ব দেওয়া ব্রেনান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি অত্যন্ত বিপজ্জনক। তিনি বলেন, এই ব্যক্তি স্পষ্টভাবে মানসিকভাবে অস্থিতিশীল। তার হাতে পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ থাকা পুরো বিশ্বের জন্য বড় ঝুঁকি।
গত ৭ এপ্রিল ট্রাম্প বলেছিলেন, আল্টিমেটাম না মানলে ‘পুরো ইরানি সভ্যতা আজ রাতেই শেষ হয়ে যাবে’— মূলত এই বিতর্কের সূত্রপাত ঘটায়। এই ঘটনার পর কংগ্রেসের ৭০ জনেরও বেশি ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রেসিডেন্টের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ২৫তম সংশোধনী কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যদি প্রেসিডেন্টকে ‘অক্ষম’ ঘোষণা করেন, তবেই তাকে সরানো সম্ভব।
এদিকে, জন ব্রেনানের এই মন্তব্যের পর ট্রাম্প শিবিরের পাল্টা চাপও বেড়েছে। বর্তমানে ব্রেনান নিজেই বিচার বিভাগের তদন্তের মুখে রয়েছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র জিম জর্ডান নিশ্চিত করেছেন, ব্রেনানের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত আরও জোরদার করা হচ্ছে।
/কহু