ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর একে ‘আন্তর্জাতিক অর্থনীতির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ’ বলে মন্তব্য করেছে তেহরান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি এক বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলেন, বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রতিশোধ নিয়ে কি কোনো অবৈধ যুদ্ধ জয় করা সম্ভব? নিজের নাক কেটে কি অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করা বুদ্ধিমানের কাজ?
পাকিস্তান মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অবরোধের ঘোষণা দেন, যা সোমবার ওয়াশিংটন সময় সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
অবরোধ কার্যকর করার পাশাপাশি ইরানি নৌবাহিনীকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরানের ১৫৮টি জাহাজ ইতিমধ্যেই সমুদ্রের তলদেশে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি লিখেন, ইরানের হাতে এখন অল্প কিছু ‘ফাস্ট অ্যাটাক শিপ’ আছে যেগুলোকে আমরা হুমকি মনে করিনি। তবে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি, এই জাহাজগুলোর একটিও যদি আমাদের ব্লকেড জোনের ধারেকাছে আসে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন জনগণকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, এই অবরোধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম আকাশচুম্বী হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ৪.১২ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ৩ ডলারের নিচে ছিল। গালিবাফ বিদ্রূপ করে বলেন, বর্তমান দাম দেখে আনন্দ পান, কারণ খুব শীঘ্রই আপনারা ৪-৫ ডলারের পেট্রোলের জন্য হাহাকার করবেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি চলাকালেও লেবাননে ইসরায়েলি বোমা হামলা অব্যাহত রেখে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতিতে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু উত্তেজনার কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির অধিভুক্ত সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, মার্কিন এই অবরোধ ইরানের পুরো উপকূলরেখা এবং তেল টার্মিনালগুলোর ওপর কোনো বাছবিচার ছাড়াই কার্যকর করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা শান্তি বজায় রাখতে এখনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
/কহু