যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার (১৩ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে- এই যুদ্ধবিরতি যেকোনো সময় নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে।’
নেতানিয়াহু জানান, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা থেকে ফেরার পথে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তাকে বর্তমান পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
নেতানিয়াহুর দাবি, আলোচনার টেবিলে বসার প্রাথমিক শর্ত ছিল ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে, কিন্তু তারা তা করেনি। তিনি বলেন, ইরান চুক্তির এই প্রকাশ্য লঙ্ঘন করায় মার্কিনিরা ক্ষুব্ধ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরান থেকে সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া এবং আগামী কয়েক দশক দেশটিতে কোনো ধরনের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম যাতে না চলে তা নিশ্চিত করা।
ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নৌ-অবরোধের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইসরায়েলের সমন্বয় এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল বা ইহুদি জাতির ইতিহাসে হোয়াইট হাউসের সাথে এমন গভীর সমন্বয় এর আগে কখনও ছিল না।
এদিকে মার্কিন সময় অনুযায়ী নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার আগমুহূর্তে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ‘সর্বোচ্চ সতর্ক’ অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজনে ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে বেসামরিক জনগণের জন্য আপাতত বিশেষ কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, আলোচনার ব্যর্থতা সত্ত্বেও আশার আলো দেখছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়পক্ষই একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে ‘আন্তরিক’। তুরস্কের পক্ষ থেকে তিনি নিয়মিত উভয় পক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য ছিল তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় ইসরায়েল অংশ নেয়নি।
/কহু