সময়ের আলোর নিউজরুমে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখের বিশেষ আয়োজন। ছবি : সময়ের আলো
পুরোনো বছরের গ্লানি, জীর্ণতা আর শোককে পেছনে ফেলে নতুন আশা ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হলো ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পথচলা। ভোরের নতুন সূর্যের আলোয় সারা দেশে নব আনন্দে উদযাপিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। লাল-সাদা পোশাক, বৈশাখী শোভাযাত্রা, পান্তা-ইলিশ আর ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বাংলাদেশ। এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং বাঙালির ঐক্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
এই আবহেই দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে রাখতে সময়ের আলোর নিউজরুমে ছিল বিশেষ আয়োজন। গান, কবিতা আর প্রাণবন্ত আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ গানের সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা সম্পাদক শায়রুল কবির খান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, প্রকাশক মো. ফয়সাল আর ফেরদৌস, চিফ বিজনেস অফিসার এহসানুল হাবীব সাদী, চিফ অপারেটিং অফিসার মুনিফ আম্মার, হেড অব আইটি অ্যান্ড এমআইএস শামীম রহমান, হেড অব মাল্টিমিডিয়া সাইদ রহমান ও হেড অব অনলাইন জাকির উসমান প্রমুখ।
সময়ের আলোর প্রকাশক মো. ফয়সাল আর ফেরদৌসকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে। ছবি : সময়ের আলো
গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য করে তোলেন সহ-সম্পাদক নন্দিনী আহসান, নুসরাত তালবিয়া, মাইসা মালিহা, নাবিলা রহিম ও মারিয়া হাসিবা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সময়ের আলোর উপদেষ্টা সম্পাদক শায়রুল কবির খান বলেন, আমার এ ধরনের প্রোগ্রামে প্রথম আসা। আমরা সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে সময়ের আলো আরও আলো ছড়াবে। সময়ের আলো আগামী দিনে আরও ভালো করবে।
সময়ের আলোর প্রকাশক মো. ফয়সাল আর ফেরদৌস বলেন, আজকের এ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আমি আমার শৈশবকে ফিরে পেয়েছি। আগের দিনের আমেজে ফিরতে পেরে আমার অনেক ভালো লাগছে।
সময়ের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম বলেন, সময়ের আলোর সাত পেরিয়ে আট বছরে পা রেখেছে। কিন্তু এ ধরনের আয়োজন এবারই প্রথম। এ ধরনের উৎসব আমরা সামনে আরও করতে চাই।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গ্রাম-বাংলার নানা ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন। ছবি : সময়ের আলো
এ সময় সময়ের আলোর চিফ বিজনেস অফিসার এহসানুল হাবীব সাদী বলেন, আপনাদের ডাকে আমি সাড়া না দিয়ে থাকতে পারিনি। এখানে এসে মনে হচ্ছে, না আসলে অনুষ্ঠানটা মিস করতাম। এই প্রোগ্রামের মধ্যে যে ভালোবাসা ছিল সেটা আমি কোনো জায়গায় দেখতে পাইনি।
অনুষ্ঠানে সময়ের আলোর চিফ অপারেটিং অফিসার মুনিফ আম্মার বলেন, আমি মনে করি, আন্তরিকতা, একসাথে থাকার চিন্তা, মানসিক সংযোগ না হলে এটা সম্ভব হতো না। সুতরাং সময়ের আলো গত সাত বছরের অনেকগুলো মানুষের মনের মধ্যে ঢুকেছে। আর গত এক বছরে সময়ের আলো ডিজিটাল এই সবগুলো মানুষকে একসাথে, এক সুতোয় গেঁথেছে।
হেড অব আইটি অ্যান্ড এমআইএস শামীম রহমান বলেন, নববর্ষের এই অনুষ্ঠান আমাকে অনেক উদ্বেলিত করেছে। আমরা একটা সঠিক পথে আছি, ইনশাআল্লাহ আমরা সেদিকে এগিয়ে যাব। সবাই মিলে সময়ের আলোকে একটা সম্মানজনক জাতীয় স্তরে নিয়ে যাব।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বিনোদন ডেস্কের সিনিয়র সহ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন মোহাম্মদ আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন। সময়ের আলোর সব সহকর্মী মিলে মুড়ি-মুড়কি, মোয়া, বাতাসা, মনাক্কা, নকুলদানা, কদমা, নাড়ু, শিঙারা ও গজাসহ নানা পদের খাবার উপভোগে মেতে ওঠেন। এসব খাবারের স্বাদ যেন সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় শেকড়ের টানে, গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্যের কাছে।
হাসি-আনন্দ, গল্প-আড্ডা আর ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় মুহূর্ত, যা সহকর্মীদের মাঝে পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করে এবং বৈশাখের আনন্দকে করে তোলে আরও বর্ণিল।