আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনার একটি ভিডিও বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো চট্টগ্রামজুড়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশের ধারণা, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের একটি ভিডিওটি শেয়ার করেন নগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সামদানি জনি। বর্তমানে নিজেকে যুবলীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন জনি।
ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের লাল দালানের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ১৩/১৪ জন। হাতে বড় ব্যানার ধরে আছে তারা। ব্যানারে বড় অক্ষরে লেখা মানববন্ধন। নিচে লেখা গোলাম সামদানি জনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, বুধবার সকালে এই মানববন্ধন করা হয়েছে।
ওই তিনি আরও লেখেন, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশনায় এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া মিনিট খানেকের এই ভিডিওতে শোনা যায়, ‘ভাষার জন্য মানচিত্রের জন্য একটি দলের জন্ম’ গানটি। মাঝে বিচ্ছিন্নভাবে হইচইয়ের শব্দও শোনা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি অফিস শুরু হওয়ার আগেই ভোরবেলা নেতাকর্মীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে এ মানববন্ধন করে। তারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
নগরীর কোতোয়ালি থানা এলাকায় আদালত ভবনের অবস্থান। যা কোর্ট হিল নামে পরিচিত। এই ভবনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। আদালত ভবনে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা আছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের এমন জায়গায় কর্মসূচি পালনে প্রশ্ন জন্ম দিয়ে সাধারণ মানুষের মনে। প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন অনেকে।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের উদ্যোগে আদালত ভবনের সামনে মানববন্ধন করার তথ্য পেয়েছি। এই কর্মসূচি বুধবারে করা হয়েছে কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এফআর