দীর্ঘ ৩৩ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সরাসরি বৈঠক করেছে ইসরায়েল ও লেবানন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের শান্তি আলোচনা শেষে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সরাসরি আলোচনা শুরুর বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৩৫ জন নিহত হয়েছে।
মঙ্গলবারের এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে তিন দশকের বেশি সময় পর ইসরায়েল ও লেবানন উচ্চ পর্যায়ের সরাসরি কোনো বৈঠকে অংশ নিল। নিজেদের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা এই দেশ দুটি এর আগে ১৯৯৩ সালে সর্বশেষ নিজেদের মধ্যে সরাসরি কোনো উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছিল। দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও অঘোষিত যুদ্ধাবস্থার পর এই আলোচনাকে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই শান্তি আলোচনায় অংশ নেন দুই দেশের রাষ্ট্রদূতরা। এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা আলোচনাকে দুই পক্ষই গঠনমূলক ও ইতিবাচক মতবিনিময় হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বৈঠকে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দাবি জানায় ইসরায়েল।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানায় লেবানন।
বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে রাজি হয়েছে দুই দেশ। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, যেকোনো শান্তিচুক্তি দুই দেশের সরকারের মধ্যেই এবং ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই আলোচনার মাধ্যমে লেবাননের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক উন্নতি এবং বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে স্থায়ী সমাধান ও সমঝোতায় অগ্রগতির জন্য আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
এদিকে, এই বৈঠককে একটি ব্যর্থ উদ্যোগ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। লেবানন সরকারকে আলোচনা থেকে সরে আসার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি। আলোচনার মাঝেই দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত লেবাননে ২ হাজার ৮০ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে এক যৌথ বিবৃতিতে, লেবাননে চলমান সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ আরও ছয়টি দেশ।
/ইউএমএইচ