চট্টগ্রামের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত নাম শিল্পপতি এম মনজুর আলম। যিনি রাজনৈতিক সমীকরণে বারবার চমক দেখিয়েছেন, পট পরিবর্তনে সঙ্গে পরিবর্তন করেছেন নিজেকে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি দিয়ে উত্থান, বিএনপির টিকিটে মেয়র হওয়া, ফের আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা—আর এবার সব জল্পনা-কল্পনা ছাপিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন তিনি? গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর উত্তর কাট্টলীর বাসভবনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের ঘটনা— এই প্রশ্নকেই জোরালো করে তুলেছে।
জানা গেছে, এম মনজুর আলম চসিকের কাউন্সিলর থেকে হয়েছিলেন মেয়র। বিএনপির টিকিটেই তিনি মেয়র পদে লড়ে জয়ী হয়েছিলেন। ডিগবাজি দিয়ে ফের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতায় জড়ানোর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। শোনা যাচ্ছে, তাকে চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক পদে বসাতে চায় এনসিপি। এরপর চসিক নির্বাচনে তাকে মেয়র প্রার্থী করতে চায় এনসিপি।
এনসিপির চট্টগ্রাম নগর কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, এম মনজুর আলমকে মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়েছে এনসিপি। এ বিষয়ে আলোচনা করতে চট্টগ্রামে আসেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তবে এম মনজুর আলম বরাবরের মতো দাবি করেছেন, তিনি এ ধরনের কোনো প্রস্তাব পাননি। এ ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি।
দলীয় সূত্র জানায়, হাসনাতের সফরের বিষয়টি গোপন রাখতে বলা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালের ফ্লাইটে চট্টগ্রামে আসেন হাসনাত। ফ্লাইটে ওঠার আগে দলের কয়েকজনকে জানানো হয় বিষয়টি। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বহদ্দারহাটে আসেন তিনি। এরপর চান্দগাঁও হামিদচরে গিয়ে বৈঠক করেন সিনিয়রদের সঙ্গে। অনির্ধারিত এ বৈঠকে দলের অনেকে ছিলেন।
হাসনাত চট্টগ্রামে আসার বিষয়টি অবহিত ছিল না সিএমপি। সিএমপির বিশেষ শাখায় তেমন তথ্য নেই। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ— এমন তথ্য মিলেছে।
সিএমপির কর্মকর্তারা বলেন, কর্মকর্তাদের অনেকেই হাসনাত আসার বিষয়টি অবহিত ছিলেন না। বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে নগরে পৌঁছে সারাদিন নগরীতে ছিলেন তিনি। এসবি থেকে কোনো রিপোর্টও আসেনি। ফেসবুকে আসার পর রাতে জানা যায়, হাসনাত এসেছিলেন। পরে আলোচনা হয় বৈঠকের বিষয়টি। খোঁজ নেয়া হয় সব কিছু।
এদিকে হাসনাত নিজেই ফোন করে বাসায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন এম মনজুর আলম।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে আমাকে ফোন করে বাসায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন হাসনাত। বিকেল ৩টার দিকে এসে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ছিলেন।
এনসিপির নেতাদের অনেকেই জানিয়েছেন, দুই প্রস্তাব নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে মনজুর আলমের আলোচনা চলছে। এই আলোচনা গত জানুয়ারি থেকেই শুরু। ঈদের পর এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম চট্টগ্রাম এসে সবকিছু চূড়ান্ত করার কথা।
তারা আরও জানান, ইতোমধ্যে মোটামুটি চূড়ান্ত করা হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরের ১৫১ সদস্যের কমিটি। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে মনজুর আলমকে। সদস্যসচিব পদে বর্তমান যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন ও মীর মোহাম্মদ শোয়াইব এবং জাতীয় যুবশক্তি চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক হিসেবে আছেন ইরফাত ইব্রাহিম। তবে সব কিছু আলোচনার মধ্যে। কিছুই চূড়ান্ত করা হয়নি।
সূত্র বলছে, হাসনাতের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। আর এনসিপির প্রস্তাব নিয়ে নিজের সম্মতি জানাননি মনজুর আলম।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ গিয়েছিলেন মনজুর আলমের উত্তর কাট্টলীর বাসায়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বের হওয়ার পর বাসার সামনে জড়ো হওয়া ছাত্রদল-যুবদলের একদল কর্মীর প্রশ্নের মুখে পড়েন। মনজুরকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দেওয়া হয়। এ সময় তোপের মুখে পড়েন হাসনাতকে। এরপরই মূলত মনজুরের সাথে এনসিপির সম্পর্ক নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
এফআর