সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় আছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। তালিকায় আছেন দলের এমপি মন্ত্রী উপদেষ্টা কিংবা নেতাদের পরিবারের সদস্যরা। তবে জোটশরিকদের পরিবারের কাউকে সংসদে পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহী নয় বিএনপি। মিত্ররাও বড়গলায় আশা করছেন না। কেউ কেউ উষ্মা প্রকাশ করছেন বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে তাদের কার্যক্রমে একলা চল নীতি অবলম্বন করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য গত শুক্রবার থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে বিএনপি। টানা তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচির গত রোববার শেষ হয়। দলের নারী নেত্রীদের মধ্যে এতই প্রতিযোগিতা চলছে যে, মনোনয়ন কিনতে গিয়ে বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় সংগীতশিল্পী কনক চাঁপাকে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, সবমিলিয়ে প্রায় ৯০০ মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
বছরতিনেক আগে বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনে প্রায় অর্ধশত দল যুক্ত ছিল। সংসদ নির্বাচনে শরিকদের বিভিন্ন উপায়ে ডজনখানেক আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। এর মধ্যে সরকারে আছে গণতন্ত্র মঞ্চের গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)। আসন ছাড় পেয়েও ভোটে হেরে যান জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চার প্রার্থী।
সংসদে যেতে ব্যর্থ হন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ আরও কয়েকজন শরিক নেতা। শরিকদের মধ্যে জিতেছেন মাত্র তিনজন। তারা আবার নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করেই জয় পেয়েছেন। তারা হলেন০ গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ। এর মধ্যে জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুর মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেয়েছেন। আবার নিজের দল ছেড়ে ধানের শীষে নির্বাচন করে জয় পেয়ে ববি হাজ্জাজ হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল ও জোটসঙ্গীরা নিজেদের পরিবারের সদস্যদের সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে পেতে চাইছেন। জোটসঙ্গীদের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে আলোচনায় রয়েছেন আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব। গণসংহতি আন্দোলন থেকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির স্ত্রী তাসলিমা আখতারের নাম আলোচনায় এসেছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের মেয়ে ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোশরেকা অদিতি হকের নামও আলোচনায় আছে।
১২ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) থেকে কাজী জাফরের মেয়ে জয়া কাজীর নাম উঠে এসেছে। পাশাপাশি জাতীয় দলের এহসান হুদার স্ত্রী রোকসানা শারমিনও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। অন্যদিকে সমমনা জোট থেকে ফরিদুজ্জামান ফরহাদের স্ত্রীর নামও বিবেচনায় রয়েছে।
এ বিষয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ সময়ের আলোকে বলেন, কোনো আশার আলো নেই। বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তারা আমাদের মনোনয়ন দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী রেখে দিল। যেখানে বিএনপি নিজেদের বিদ্রোহী প্রার্থী বসাতে পারল না, সেখানে সংরক্ষিত আসন শরিকদের দেবে মনে হচ্ছে না। তবে জোটসঙ্গীদের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে সংরক্ষিত আসনে প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না সময়ের আলোকে বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চ প্র্যাকটিক্যালি নেই। তাই জোটের চাওয়া এখন বলা সম্ভব নয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি শরিকদের মধ্য থেকে সংরক্ষিত আসন চাই না। আমার সঙ্গে বিএনপির কোনো কথাবার্তা হয়নি।
গণতন্ত্র মঞ্চের আরেক নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সময়ের আলোকে বলেন, আমাদের তরফ থেকে কোনো দেন-দরবার নেই। বিএনপি চাইলে এ বিষয়ে আলাপ করতে পারে। তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে না, বিএনপি এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেবে। কারণ তাদের কার্যক্রমে একলা চল নীতির বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। তারা এখন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী। সুতরাং তারা হয়তো ধরে নিয়েছে ভবিষ্যতে তাদের কাউকে প্রয়োজন পড়বে না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, যারা অতীতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কথা বলার দক্ষতা আছে এমন- নারী নেত্রীদের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ প্রসঙ্গে সময়ের আলোকে বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনা করিনি। দলীয় ফোরামে বসে সিদ্ধান্ত নেব।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ২১ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে; বাছাই ২২ এপ্রিল ও ২৩ এপ্রিল এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ভোট হবে ১২ মে।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। বিএনপি জোট ৩৬, জামায়াত জোট ১৩ ও স্বতন্ত্র জোট ১টি আসন পাবে।