লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৮ নম্বর চর কাদিরা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কে. এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘ ৯১ বছরের পথচলায় স্কুলটি এলাকাজুড়ে শিক্ষার আলো ছড়ালেও আজ পর্যন্ত সেখানে তৈরি হয়নি কোনো স্থায়ী খেলার মাঠ। ফলে বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সূত্রমতে, ১৯৩৫ সালে জনবহুল ফজুমিয়ার হাটসংলগ্ন এলাকায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত চার থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও নিজস্ব মাঠ না থাকায় বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য দূরবর্তী ভুলুয়া নদীর পাড়ে যেতে হয়। এতে একদিকে যেমন সময়ের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে থাকেন অভিভাবকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ঠিক সামনেই ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৭৩৪২ দাগে প্রায় ৬৩ শতাংশ পরিত্যক্ত জলাশয় রয়েছে। এই জমিটি বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ দিয়ে ভরাট করা হলে সহজেই একটি আদর্শ খেলার মাঠ তৈরি সম্ভব। এই দাবিতে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিল্লাহর কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে কে. এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, একটি স্থায়ী খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অপরিহার্য। মাঠ না থাকায় আমরা গোল্ড কাপ টুর্নামেন্ট, আন্তঃক্রীড়া প্রতিযোগিতা বা জাতীয় পর্যায়ের ইভেন্টগুলো আয়োজন করতে পারছি না। আমরা সরকারি খাসজমিটির বরাদ্দের জন্য যথাযথ দফতরে আবেদন জানিয়েছি।
স্থানীয় অভিভাবক মোখলেছুর রহমান ধনু, মিজানুর রহমান সোহেল, ও মাহফুজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও শুধু প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার অভাবে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ বছর ধরে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত এই পরিত্যক্ত জলাশয়টি ভরাট করে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থায়ী খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
৯১ বছরের এই প্রাচীন বিদ্যালয়ে একটি খেলার মাঠ এখন সময়ের দাবি- এমনটাই মনে করছেন সচেতন এলাকাবাসী।
সময়ের আলো/আআ