আমি তাকে বাবা হিসেবে স্বীকার করি না : ইলন মাস্ক কন্যা ভিভিয়ান

সময়ের আলো ডেস্ক

আনন্দ সময়

তিনি আমাকে সন্তান হিসেবে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন কি না, জানা নেই। তবে এটুকু জানি, আমি তাকে (বাবা হিসেবে) স্বীকার করি না,

2026-04-16T12:18:51+00:00
2026-04-16T12:18:51+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আনন্দ সময়
আমি তাকে বাবা হিসেবে স্বীকার করি না : ইলন মাস্ক কন্যা ভিভিয়ান
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম 
ইলন মাস্কের ট্রান্স কন্যা ভিবিয়ান জেনা উইলসন। ছবি : সংগৃহীত
তিনি আমাকে সন্তান হিসেবে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন কি না, জানা নেই। তবে এটুকু জানি, আমি তাকে (বাবা হিসেবে) স্বীকার করি না, পরিচয় দিই না। (বাবাকে নিয়ে) গর্বিত হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। নিউইয়ার্ক গণমাধ্যম ডেইলি মেইলকে এমনটাই জানালেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের ট্রান্স কন্যা ভিবিয়ান জেনা উইলসন (২১)।

ভিভিয়ান তার সংগ্রামের গল্প ভাগ করে নিয়েছেন বিশ্বের সঙ্গে। আর সেখানে উঠে এসেছে মাল্টি বিলিয়নিয়ার বাবা ইলন মাস্কের প্রতি তার একরাশ অভিমান ও ক্ষোভ। ভিভিয়ানের জীবনের গল্প হয়ে উঠেছে বাবার সঙ্গে তার সম্পর্কের দূরত্ব, মানসিক সংগ্রাম এবং আত্মপরিচয় খুঁজে ফেরার গল্প।

ভিভিয়ান জেনা উইলসন ২০২২ সালের আগপর্যন্ত পরিচিত ছিলেন জেভিয়ার মাস্ক নামে। নাম পড়েই বোঝাই যাচ্ছে, তিনি ২০২২ সালের আগপর্যন্ত ভিভিয়ানের লৈঙ্গিক পরিচয় ছিল ‘পুরুষ’।

২১ বছর বয়সি ভিভিয়ান বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া পারসোনালিটি হিসেবে পরিচিত। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ছাড়িয়ে গেছে ১০ লাখ। কাজ করছেন মডেল হিসেবে। দেখা দিয়েছেন ‘ভোগ টিন’–এর প্রচ্ছদে।

২০০৪ সালের ১৭ এপ্রিল ইলন মাস্কের প্রথম স্ত্রী ও কানাডীয় লেখক জাস্টিন উইলসনের ঘরে জন্ম নেন ভিভিয়ান। তার এক যমজ ভাই আছেন, নাম গ্রিফিন মাস্ক।

২০০৮ সালে ইলন মাস্ক ও তার প্রথম স্ত্রী জাস্টিন উইলসনের বিচ্ছেদ হয়। মূলত তখন থেকেই, অর্থাৎ মাত্র ৪ বছর বয়স থেকেই বাবার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে ভিভিয়ানের।

২০২২ সালে ভিভিয়ান জটিল অস্ত্রোপচারের নিচে নিজেকে সঁপে দিয়ে শারীরিকভাবে নারী হয়েছেন। কেননা তিনি শারীরিকভাবে পূর্ণাঙ্গ নারী না হলেও নিজেকে নারী হিসেবেই পরিচয় দিতেন।

অস্ত্রোপচারের পর নিজের নাম পরিবর্তন করেন, আইনিভাবে নিজের লৈঙ্গিক পরিচয় (নারী) নিশ্চিত করেন এবং নিজের নাম থেকে বাবার পদবি মুছে ফেলেন। নিজের নাম নিজেই রেখেছেন ভিভিয়ান।

এর বাইরে একাধিক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে তিনি নিজেকে বাবার সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে চান না।


ভিভিয়ান বলেন, আমার জীবনে আমার বাবার (ইলন মাস্কের) উপস্থিতি ১০ শতাংশেরও কম। আমার যখন বাবাকে সবচেয়ে প্রয়োজন ছিল, তখন পাশে পাইনি। সত্যি কথা বলতে, বাবাকে কখনোই পাশে পাইনি। অবহেলিত আর নিঃসঙ্গ এক শৈশব কেটেছে আমার।

ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্বে তিনি বলেন, ভিভিয়ান জেনা উইলসন একজন ট্রান্স নারী। কিন্তু এই পরিচয় গ্রহণের পথ সহজ ছিল না। এই আত্মপরিচয় খুঁজে পেতে বাবার সমর্থন পাইনি। উল্টো তার বাবা তাকে ভুল লিঙ্গে সম্বোধন (মিসজেন্ডারিং) করেছেন ও জোর করে অন্য লিঙ্গ চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন।

শৈশব ও কৈশোরের ট্রমা কাটিয়ে উঠতে বেশ সময় লেগেছে তার, নিজের সঙ্গে নিজের যুদ্ধ করতে হয়েছে বারবার।

ভিভিয়ান আগে জানিয়েছেন, তিনি তীব্র মানসিক চাপে ভুগেছেন। জাপানের টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় ক্লাসে বারবার ভেঙে পড়তেন। পড়াশোনা শেষ না করে ‘ড্রপড আউট’ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন।

এমনকি একাধিকবার জীবনের প্রতি আগ্রহও হারিয়ে ফেলেছিলেন। নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখার সময়টা ছিল তার জন্য সবচেয়ে কঠিন। এমনকি নিজের পরিচয়ে ফিরতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য পেয়েছেন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে।

ভিভিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে সাধারণ জীবনযাপন করেন। রুমমেটদের সঙ্গে ভাগ করে থাকেন একটা সাধারণ বাসায়। নিজের খরচ নিজেই চালান। নিজেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন, সে পথেই হাঁটছেন ভিভিয়ান।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   ইলন মাস্ক  ট্রান্স কন্যা  ভিবিয়ান জেনা উইলসন  বাবা 


Loading...
Loading...
আনন্দ সময়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: