বিনয় মজুমদারের নারীরা
মুখোশের ঋতু উঠে গেলে, এ ভরা মাঘের দিনে।
আমরা দেখি, পাখির আদলে গড়া প্রকৃত সারস
উড়ে যায়...
কি জানি, কোন দেশে!
যেখানে ঢিল ছোড়ার শব্দে, ভেংগে যায় যাবতীয় কথার ছল। ঠোঁটের কোণায় গোঁজা ভান যতো...
জীর্ণ গাছের শাখা, কবরের উপর ঝুঁকে বুকে
খোঁজে মৃত নারীদের লাশের বাকল।
যারা মরে গেছে বয়সের ঢের আগে—
তলপেটের ক্ষীন আলোয়, তাদের কি আরো কিছু কবিতা লেখার কথা ছিলো না!
তাদের স্মরণ সভায় কি উঠবে ব্রীড়ানত এই হাত?
আস্তিনে লুকানো আপনাদের শোকসন্তপ্ত বাণী, কেউ শোনাবেন না আজ এই ম্যাড়মেড়ে শোকসভায়।
পৌঁছাবার খুব তাড়া নিয়ে—
অন্ধকারের মধ্যে,
এতখানি ধুধু জলের পথ, সে একাই এসেছে পার হয়ে।
চারিদিকের সকল ছলছুতোর পর্দা সরিয়ে,
মানুষ তো, খুব বেশি হলে একটা কবরের নিস্তব্ধতা পর্যন্ত যেতে পারে।
নষ্ট গর্ভ
ঘনহরিৎ এ শহরে, কোনভাবেই কোন ঋতুমতী নারীকে মনে করতে পারি না।
তলপেটের মসৃণ নিয়ে একটা ছবি আঁকার চেষ্টা করি।
ঠিক যেন ঋতুমতীদের ভুলের মতো।
আনখ, লাল নাগালিংগম ফুল।
তাদের জঠরকল থেকে বেড়িয়ে আসা শিশুরা পাজরের ওপর গ্যাট হয়ে বসে থাকে, ওসিরিসের সাথে করে সন্ধি।
মানুষের আদলে গড়া…
রক্ত-মাংসের ঢিপি
মানুষ দেখতে যেমন—
হে, ভুল করে তুলে নেয়া বীজ
নারীর জঠর বেদনা কেমন?
আদম আপেল ছিঁড়ে ফেলে পাতালের দেবতারা।
পবিত্র প্রাণীদের জন্মলগ্ন ঘুচে যায় অন্ধকারে।
ঘুমের মধ্যে ঝরে যায়, সকল ব্যথাতুর নারীদের গর্ভফুল।
তুমি যারে দেখো, সে আমি নই
আচমকা খুন হয়ে গেছি
এই আন্ধার গলি ঘুপচি ধরে হাঁটতে হাঁটতে।
টের পাই আততায়ীর গায়ে লেগে থাকা ডানার ঘ্রাণ।
অথচ তার ঢের আগেই, মারা গেছি আমি। পরিচিত আঙুল জুড়ে নিঃশ্বাসের দাগ সয়লাব...আহ আমার দুই টুকরা জীবন! মিঠা পানির মাছের মত নিরীহ জীবনী! দেখ কি সুন্দর তড়পায়
আফটারনুন স্যাডনেস ২য়
শহরজুড়ে একটা সিনেম্যাটিক সন্ধ্যা।
বাড়ির দিকে তুমুল ছুটছে কিছু রিখশা।
পাতাদের শিরায় শিরায় মানুষের জন্মমৃত্যু ফোঁটা, ছেয়ে গেছে অন্ধকারের মতোন।
পিতার মন খারাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একা পোস্ট-অফিস।
একটা বধূ হেঁটে যাচ্ছে...
থলে থেকে উঁকি দিচ্ছে বিষাদাক্রান্ত পুঁইডগা।
ধীরে তার সমস্ত সংসার উবে যাচ্ছে হাওয়ায়।