এই সপ্তাহের কবিতা

সাহিত্য

ক্ষয়ক্ষতি-ধ্বংস জোড়া দিতেস. ম. শামসুল আলমজোড়া তো লাগলই নাঅধিকন্তু খসে গেল নির্ধারিত দেয়ালের হাত-পা।কতবার বলেছি, এখানে দৃঢ় কংক্রিট মৌনতার চাপে

2026-09-04T05:44:18+00:00
2026-09-04T05:44:18+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
সাহিত্য
এই সপ্তাহের কবিতা
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৪ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ক্ষয়ক্ষতি-ধ্বংস জোড়া দিতে
স. ম. শামসুল আলম

জোড়া তো লাগলই না
অধিকন্তু খসে গেল নির্ধারিত দেয়ালের হাত-পা।
কতবার বলেছি, এখানে দৃঢ় কংক্রিট মৌনতার চাপে মলয়ার মোম।
কতবার বলেছি, এখানে মোমগুলো মায়াবী ঘর্ষণে কঠিন ইস্পাত।
অথচ জাগ্রত অনুভূতি কোনো কাজেই এলো না।
বোঝানো গেল না জীবনের দৈর্ঘ্য কতটুকু।
টাইলসের ফ্লোরে হেঁটে যেতে,
মনে হলো পায়ের তলায় তুলতুলে তুলো
দেবে যাচ্ছে পা, কোনো নির্জন গভীরে।
কতবার বলেছি, এখানে মানবিক মানুষগুলো
নেতানিয়াহুর মতো দানবিক পশু হয়ে যাচ্ছে।
কতবার বলেছি, এখানে দানবের শরীরে গজাচ্ছে বিধ্বংসী হুল।
মৃত্যুর দরজা খুলে নিরন্নরা ডেকে চলে, আয়।
বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি, কতটা কঠিন হলে মানুষেরা ভালোবাসা ভোলে।
নরম থেকে নরম হতে হতে পিষে যাচ্ছি নিজেরা নিজেকে
এই ক্ষয়ক্ষতি-ধ্বংস জোড়া দিতে অপেক্ষা এখনও।


শব্দ ও অমরত্ব
সমর চক্রবর্তী

আমরা শব্দের ভেতর ভ্রমণ করি,
ভাষায় হারাই পথ।

আর তারপর, জীবনের স্বপ্নগুলো আয়নায় তাকালে
বাঘের চোখের ভেতর শিল্পকলা চকচক করে ওঠে।

কখনো এক টুকরো সাদা মুহূর্তকে
কঠিন কালো উপসংহারে ভারী করি,
অলংকারের মালা ছিঁড়ে ফেলি,

বিভ্রান্তির মুক্তোগুলো চূর্ণ করি।
নতুন অর্থ দিই সেই নিস্তেজ লালকে,

যে অমরত্বের পাতায় কামড় বসায়।


আড়াআড়ি পথ
তানভীর রাতুল

অবশেষে, আমরা সবসময়ই কোনো এক আড়পথে
আমরা বাস করি স্থান-সময় অক্ষের শূন্য বিন্দুতে,
প্রজন্মান্তর ও আন্তঃঅঞ্চলীয় কেন্দ্র এই এখানে-এখন
এটা সুসন্ধানীদের ভেতরকার বন্ধন।
প্রতেক্যেরই হয়তো আছে স্বস্বাধীন-যুদ্ধকাহিনি
কিন্তু ব্যক্তিবীরত্বের বাইরে, আমরা সবাই জানি
আমরা বিনিময় করি আমাদের কিছুটা আত্মা
বিভাজিত বা একত্রিত, আমন্ত্রিত বা অযথা
আমাদের কোথাও ঠাঁই নেই কেবল নিজেদের ভেতর
যতটা ভাবতে পার অথবা পার না সেই পরম্পরা
তুমি আমি; আমি তুমি; আমরাই সব; সবাই আমরা...।


বর্ষায় কত কী হচ্ছে
নাইমুল করিম

এই বর্ষা মৌসুমে-
কবি কবিতা লিখছে
চিত্রকর ছবি আঁকছে
নৃত্যশিল্পীরা বর্ষাবিষয়ক নাচ নাচছে
আর কোকিলকণ্ঠী রমণীরা তদুপযুক্ত
গান গাইছে;

অতকিছু লোভ সামাল দিতে না পারা-
আমি ভাবছি, কিছু না কিছু লিখি!
কাগজে-কলম চালাতে যেয়ে প্রথমে-
আমি মুমিনুন্নিসা সরকারি গার্লস কলেজ
একাদশ শ্রেণি বিজ্ঞান বিভাগ ১৯৯৩ ইং

কলেজের দোতলার জানালা থেকে হাত বাড়িয়ে
বৃষ্টি ছোঁয়ার দৃশ্য
কলেজ ফিরতিপথে ভিজতে ভিজতে
বাড়ি ফিরতে থাকা
বৃষ্টিস্নাত তোমার অপূর্ব দেহভঙ্গি, যত চাঞ্চল্য
পুঙ্খানুপুঙ্খ লিখে রাখি, এ হৃদয়ে গেঁথে রাখি!


দোদুল্যমান সময়ের নির্যাস
শেলী সেনগুপ্তা

কষ্টে নয়,
আনন্দেও কেঁপে ওঠে ঠোঁট
গাছের ঝরে পড়া শেষ পাতাটি যেন,
যাপনের অন্তিম বিন্দুটিও
মিশে থাকে নিশ্বাসে
প্রাপ্তির বিনম্র বয়ানে
এভাবেই বুঝি
লেখা হয় মানবতান্ত্রিক ইতিহাস
কেউ কি বলেছিল
মানুষ সবশেষ বিবেচনায়ও মানুষ...।


পালক উঠেছে হাটে
আহমেদ শিপলু

তারপর এক দিন অথবা অনেক অনেক দিনশেষে পাখি হতে চাওয়া। যেহেতু মানুষরা সবাই পালকের ব্যাপারী। মিছিল শেষ। রাস্তা চলে যায় ঝাড়ুদারের বাড়ি। বণিক বেশে জাহাজের পাটাতনে নামে রোদ। জ্যোৎস্নার দালালরা উঠে গেছে এস্কেলেটরে। সাত তারা জলসায় চাঁদ নামে রোজ।
সমুদ্র বন্ধকে। নদী অথবা পাহাড় বিক্রির টেবিলে। প্রচুর অস্ত্র কেনা হবে, মজা পুকুরে যেহেতু মশার কুচকাওয়াজ! বেড়ালের প্রতি স্নেহ ও আদর, কুকুরের প্রতি ষষ্টাঙ্গ প্রণতি! জার্মান শেফার্ড, ফ্রেঞ্চ বুলডগ, ল্যাব্রাডর রিট্রিভার আর নেড়িকুত্তার সম্মিলিত ঘেউ! এবং ঘেউ ঘেউ!
আমরা থিটা কিংবা গামা স্তরে! পালকের ব্যবসা ফুরোলে বেচে দেব আকাশ। ওড়ার জন্য মিছিল হবে ফের, বুদ্ধি খাটিয়ে ডানা ঝাপটানোর কর্মশালা খুলে বসব! নন বার্ডস অর্গানাইজেশনের কাছে চিঠি লিখব। প্রচুর ফরেন অনুদানে ভারী হবে পকেট। পাখি হতে চাওয়া মানুষের রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে অজস্র পক্ষীমূর্তি। যারা এক দিন তাদের ডানা বেচে দিয়েছিল!

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা
Advertisement
Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: