কুমিল্লার হোমনায় এক গৃহবধূকে (১৮) তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে উপজেলার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তরকান্দিগামী রাস্তার নির্জন স্থানে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে হোমনা থানায় মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামী হোমনা পৌর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা একটি অটোরিকশা করে তিতাস উপজেলায় বাবার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কৃষি কলেজ এলাকা পার হওয়ার পর ওপারচর গ্রামের আশিকুর রহমান (২৪) ও তার আরও ৬ থেকে ৭ জন সহযোগী দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে দম্পতির পথরোধ করে।
অভিযুক্তরা দম্পতিসহ অটোরিকশাটিকে একটি নির্জন ইটের রাস্তায় নিয়ে যায়। সেখানে আশিকুর রহমান ও তার দুই সহযোগী ওই নারীকে আটকে রাখে। বাকিরা তার স্বামী ও অটোচালককে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। এই সুযোগে আশিকুর রহমান ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে অভিযুক্তরা দম্পতিকে ছেড়ে দিলে তারা হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আসামি গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, প্রধান অভিযুক্ত আশিকুর রহমানসহ অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। অভিযান চলমান। আশা করছি দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনতে পারব।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনিস উদ্দিন জানান, জড়িতদের শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শহিদ উল্লাহ জানান, রাত তিনটার দিকে ভুক্তভোগী হাসপাতালে আসেন। শারীরিক ও মানসিকভাবে মোটামুটি স্বাভাবিক ছিলেন।
ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, লজ্জাস্থানে কিছুটা ব্যথা অনুভব করছেন, আমরা তাকে উন্নত চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠিয়েছি।