মাঠের পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় ঝিনাইগাতী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ। দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারী, সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয় খেলাধুলা থেকে, বিঘ্নিত হয় প্রতিদিনের সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি)। এই সমস্যা সমাধানে মাঠটিতে মাটি ভরাটের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩৮ সালে ৫৬ শতাংশ জায়গা নিয়ে ঝিনাইগাতী বাজারে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে একটি পরিত্যক্ত ভবনসহ চারটি ভবন রয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২২৭ জন, শিক্ষক রয়েছেন ৯ জন। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতি বছরই সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে। পিছিয়ে নেই খেলাধুলাতেও। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠসহ দুই-তিনটি শ্রেণিকক্ষ পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে আসা-যাওয়া করা যায় না।
সরেজমিন দেখা যায়, সকালে সামান্য বৃষ্টিপাত হওয়ায় বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ওই পানি মাড়িয়েই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করছে শিক্ষার্থীরা। আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী পানিতে দৌড়াদৌড়ি করছে। সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে পানির মধ্যে বেঞ্চে বসে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনাইদ জানায়, মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত খেলাধুলা করা যায় না। আজকে পানি মাড়িয়ে ক্লাসে প্রবেশ করেছি। আবার পানির মধ্যেই বেঞ্চে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। ক্লাস রুমে পানি থাকায় মশার পরিমাণও বেশি। এ সময়ে একটু বৃষ্টি হলেই একটি ভবন থেকে অন্য ভবনে আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যালয় থেকে রাস্তায়ও যাওয়া যায় না।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক জামাল মিয়া বলেন, উপজেলা সদরের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এটি। অথচ এ বিদ্যালয়ে একটি আধুনিক ভবন নেই। প্রতি বছর বর্ষাকাল এলেই সামান্য বৃষ্টিপাতে মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মনোয়ারা বেগম বলেন, পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। এ কারণে মাঠটিতে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলে মাঠে পানি বেড়ে যায়। বিদ্যালয়টিতে একটি ভবনে অফিস কক্ষ এবং অন্যগুলোতে শ্রেণিকক্ষ আছে। জলাবদ্ধতার কারণে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে আসা-যাওয়া করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়। শিক্ষার্থীরা এই সময়টাতে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এ কারণে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি কম থাকে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার মৌখিকভাবে জানিয়ে কিংবা লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। আবার মাঠে মাটি ভরাট করা হলে মাঠের চেয়ে শ্রেণিকক্ষের মেঝে একেবারে নিচু হয়ে যাবে। এতে বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করবে। তাই বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাটসহ একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফারহানা পারভীন বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটসহ জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য বরাদ্দ এসেছে। জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল আমীন বলেন, বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতাসহ মাঠ ভরাটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএডি/