‘ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যান ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাদেশ

চট্টগ্রামের আলোচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহিদুল

2026-07-20T23:46:56+00:00
2026-07-21T07:32:53+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা
‘ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যান ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম  আপডেট: ২১.০৭.২০২৬ ৭:৩২ এএম
চট্টগ্রাম আদালত। ছবি : সময়ের আলো
চট্টগ্রামের আলোচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত। এ সময় আদালত কক্ষে এক অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সোমবার (২০ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে তিনি এই সাক্ষ্য দেন। 

বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। শুনানির সময় চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, বাকি আসামিদের কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারক।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, সোমবার আদালতে সেদিনের নির্মম ঘটনার বর্ণনা দেন আলিফ হত্যা মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত। জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি বারবার অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা শুরু করেন।


সাক্ষ্যে শহিদুল আলম রাহাত বলেন, হামলার সময় আইনজীবী সাইফুল হোঁচট খেয়ে নিচে পড়ে গিয়েছিলেন। পড়ে গিয়ে তিনি আমাকে হাত বাড়িয়ে বলেছিলেন—‘ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যান, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ এটিই ছিল সাইফুলের বলা শেষ কথা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি পেছনে ফিরে দেখি নীল রঙের গেঞ্জি পরা ও মাথায় হেলমেটধারী এক যুবকের নেতৃত্বে হাত রামদা-কিরিচ নিয়ে ৫০-৬০ জনের একটি দল দাঁড়িয়ে আছে। আমি এগোনোর আগেই তারা আমাদের দিকে তেড়ে আসে। পরে জানতে পারি আসামি রিপন দাসসহ অন্যরা মিলে সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের এই দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরা শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পুনরায় সময়ের আবেদন করায় আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২০ আগস্ট জেরার পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষের একপর্যায়ে কোতোয়ালি থানার পেছনে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর নিহত সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১ জুন সিএমপির তৎকালীন কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। গত বছরের ২৫ আগস্ট শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন।

বর্তমানে এই মামলার অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে ২৭ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি ১২ জন পলাতক। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   ভাইয়া  আমাকে নিয়ে যান  আমাকে মেরে ফেলবে  আইনজীবী  আলিফ  হত্যা মামলা  চট্টগ্রাম  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: