ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের বিক্রেতা মাজেদুল হক ওরফে হেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) তিনদিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা হেলালের জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন জানান।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তার স্বীকারোক্তি নথিভুক্ত করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রুকনুজ্জামান।
এর আগে গত ১৫ এপ্রিল আদালত হেলালকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠান।
তিনি চট্টগ্রামের ‘হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং’ নামে একটি অস্ত্র বিক্রির দোকানের মালিক।
গত ১৪ এপ্রিল নগরীর চকবাজার থানার হারেছ শাহ মাজার লেন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলনের সময় পরিচিতি পাওয়া শরিফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগকালে দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি।
মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে মামলায় হত্যা (৩০২) ধারা যুক্ত করা হয়। প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে তা ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি। তবে অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী।
আদালত আবেদন গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি পুনরায় সিআইডিতে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হেলালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এই বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।