বাঙ্কার-বাস্টার দিয়েও ভাঙা কঠিন ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’, দুশ্চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহানের মতো

2026-04-18T18:53:54+00:00
2026-04-18T19:04:37+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বাঙ্কার-বাস্টার দিয়েও ভাঙা কঠিন ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’, দুশ্চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৩ পিএম  আপডেট: ১৮.০৪.২০২৬ ৭:০৪ পিএম
ইরানের পিক্যাক্স মাউন্টেন। ছবি : দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহানের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব ধ্বংসের নিচে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প “পারমাণবিক ধুলা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে এত বড় ধাক্কার পরও ইরানের একটি সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ অক্ষত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি এত গভীর পাহাড়ের ভেতরে নির্মিত যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার বোমাও সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম নয়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই স্থাপনাটির নির্মাণ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে, যেখানে আকাশপথে হামলা কার্যত অসম্ভব হবে।

সম্প্রতি ইরানে হামলার সময় কট্টরপন্থী কিছু মহল ট্রাম্পকে স্থল অভিযান চালিয়ে বিশেষ বাহিনী দিয়ে ভেতরে বিস্ফোরক স্থাপন করে ধ্বংস করার পরামর্শ দেয়। এমনকি সেখানে রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার মতো প্রস্তাবও আসে। তবে অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষের বিশেষজ্ঞরা এসব পরিকল্পনাকে অবাস্তব বলে মনে করেন। তাদের মতে, পিক্যাক্স মাউন্টেনের অস্তিত্বই প্রমাণ করে যে শুধুমাত্র সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি থামানো সম্ভব নয়।

বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন যখন ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথে এগোচ্ছে, তখন দুই পক্ষের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মত রয়েছে যে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে এই স্থাপনাটিকে স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

স্থানীয়ভাবে ‘কুহ-ই কোলাং গাজ লা’ নামে পরিচিত এই পিক্যাক্স মাউন্টেন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য খুব সীমিত। তবে স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরপরই এখানে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ শুরু হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অতীতেও ইঙ্গিত করেছিলেন যে ইরান একটি নতুন, আরও নিরাপদ স্থানে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় গড়ে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি মূলত এই পিক্যাক্স মাউন্টেনের দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন।

গত জুনে “অপারেশন মিডনাইট হ্যামার” অভিযানে ফোরদোতে যুক্তরাষ্ট্র ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করেছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, পিক্যাক্স মাউন্টেন ফোরদোর চেয়েও প্রায় ২ হাজার ফুট গভীরে কঠিন গ্রানাইট শিলার ভেতরে অবস্থিত, ফলে ওই ধরনের বোমাও সেখানে কার্যকর নাও হতে পারে।

জিনসা নামের একটি মার্কিন গবেষণা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, পিক্যাক্স মাউন্টেন শুধু গভীরই নয়, এটি আরও বড় ও বেশি সুরক্ষিত। এখানেই হয়তো ভবিষ্যতের পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারে ইরান।


২০২০ সালে ইরান জানিয়েছিল, এখানে সেন্ট্রিফিউজ তৈরির কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) সেখানে প্রবেশের অনুমতি পায়নি। ফলে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ আরও বেড়েছে।

কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ইরান হয়তো উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ আগেই এখানে সরিয়ে নিয়েছে। তবে সেই মজুত কোথায় আছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। আইএইএ প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু অংশ সম্ভবত ইসফাহানের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে, কিন্তু বাকি অংশের অবস্থান অজানা।

ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান এই ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিক্যাক্স মাউন্টেনকে সামরিকভাবে লক্ষ্য করা হলে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে। গভীর ভূগর্ভস্থ অবস্থানের কারণে শুধুমাত্র বিমান হামলা যথেষ্ট নয়। এর জন্য স্থল অভিযান বা বিশেষ বাহিনীর অভিযান প্রয়োজন হতে পারে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

কিছু বিশ্লেষকের মতে, স্থাপনাটি ধ্বংস করতে গেলে ভেতরে থাকা ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক উপাদান উদ্ধারও কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সামরিকভাবে সমাধান কার্যত জটিল হয়ে উঠছে।

সামরিক ও কূটনৈতিক মহলে এ নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট। একদিকে কেউ বলছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করতে হলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ দরকার। অন্যদিকে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, কূটনৈতিক সমঝোতাই একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ।

পিক্যাক্স মাউন্টেন এখন শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক ভবিষ্যৎ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে ভেতরে আসলে কী ঘটছে, তা এখনো অজানাই রয়ে গেছে। 


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   বাঙ্কার-বাস্টার বোমা  ইরান  পিক্যাক্স মাউন্টেন  যুক্তরাষ্ট্র 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: