বরিশালের মুলাদীতে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান সড়ক সংস্কার কাজে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শিশুদের হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে সংস্কারকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, মুলাদী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর পাইতিখোলা খেয়াঘাট থেকে সদর ইউনিয়নের কুতুবপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিটার সড়ক সংস্কার কাজ চলছে। এই কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় চার কোটি টাকা। সংস্কার কাজ করছেন ঠিকাদার মো. রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ইট, কম পরিমাণ বিটুমিন ও প্রয়োজনীয় প্রাইম কোড ছাড়াই সড়ক সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কুতুবপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিল সিকদার বলেন, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু কম বিটুমিন ব্যবহারের কারণে শিশুদের হাতের টানেই পিচ উঠে যাচ্ছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা পরদিন (১৬ এপ্রিল) কাজ বন্ধ করে দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি দাবি করে বলেন, মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজ নিয়ে নিয়ম মেনেই সড়কের কাজ করা হচ্ছে। সড়কে পিচ ঢালাইয়ের পর পূর্ণাঙ্গ ‘কিউরিং’ হতে অন্তত ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। তবে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে হাত দিয়ে পিচ তুলে ভিডিও করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়াউল হক বলেন, পাইতিখোলা থেকে কুতুবপুর সড়কের কাজ সন্তোষজনক হলেও কিছু লোক কাজের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফআর