বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাব। রাশিয়ান ফরোয়ার্ড মারাত তারেকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে গোপীবাগের দলটিকে ২-১ গোলে হারিয়ে অবনমনন অঞ্চলের শঙ্কা থেকে আপাতত মুক্তি পেল তারা। ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল টানটান উত্তেজনা আর নাটকীয়তায় ঠাসা। রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। প্রথমার্ধের ১৪ মিনিটে পিডব্লিউডিকে লিড এনে দেন রাশিয়ান ফরোয়ার্ড মারাত তারেক।
গোল হজম করে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ৩৬ মিনিটে কেরফালা বক্সে ঢুকে জটলার মধ্যে পড়েন, তিন-চারজনকে কাটালেও শট নিতে পারেননি। সেখান থেকে বল তুলে দেন শায়েক দোস্তের পায়ে। পাকিস্তানী ফরোয়ার্ড শট নিলে অনায়াসেই গ্লাভসবন্দি করেন পিডব্লিউডি গোলকিপার। ৩৮ মিনিটে বাঁ-দিক থেকে আলমগীরের ক্রসে বলে মাথা ছোঁয়ান মনির। তবে হেডে গতি না থাকায় সহজেই বল ধরে ফেলেন পিডব্লিউডির গোলকিপার। তবে রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধ লিড ধরে রেখেই বিরতিতে যায় পিডব্লিউডি।
বিরতির পর আক্রমণ শাণিত করে ব্রাদার্স। ফল আসে ৬২ মিনিটে; অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার চমৎকার একটি ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড শায়াক দোস। সমতায় ফিরে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিল কমলা জার্সিধারীরা। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট ছিল ব্রাদার্সের আক্রমণের তোড়। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি-কিক, কর্নার ও লম্বা ক্রসগুলো বারবার গোলের সম্ভাবনা তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি।
৮৫ মিনিটে বক্সের ভেতরে পিডব্লিউডির ফরোয়ার্ডকে ফাউল করায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে আবারও এগিয়ে দেন মারাত। মাঠের উত্তাপ ছড়ায় ডাগআউটেও; মেজাজ হারিয়ে রেফারি কর্তৃক হলুদ কার্ড দেখেন ব্রাদার্স কোচ ওমর সিসে। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিডব্লিউডি।
লিগের ১৩তম রাউন্ড শেষে এই জয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে পিডব্লিউডি। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে
থাকায় সপ্তম স্থানে রয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। অন্যদিকে ১০ পয়েন্ট নিয়ে রেলিগেশন জোনের তলানিতে অবস্থান করছে আরামবাগ ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব। পিডব্লিউডির জন্য এই জয় লিগের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে বড় আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
সময়ের আলো/আআ