পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ ঘিরে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ‘জগ অর্ণব’ ও ‘সানমার হেরাল্ড’ নামের জাহাজ দুটি প্রণালী অতিক্রম করার সময় ইরানি গানবোটের মুখোমুখি হয়। গুলির ঘটনা ঘটলেও এতে কোনো হতাহতের খবর নেই এবং জাহাজগুলোর বড় ধরনের ক্ষতিও হয়নি। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজ দুটিকে পথ পরিবর্তন করতে হয়।
ঘটনার পরপরই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে ভারত। দিল্লিতে নিযুক্তি ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত সরকার তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন
এদিকে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি। ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় তারা প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। তাদের দাবি, ইরানের জাহাজ চলাচল নিরাপদ না থাকলে অন্যদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে।
বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য এই প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম- বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও দামের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রণালীটি কিছুদিন বন্ধ থাকার পর মাত্র একদিন আগে পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছিল। আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা দিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু তার পরদিনই এই হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিল।
এএডি/