ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে সামনে রেখে জোট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে দলটির কৌশল এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
দলীয় সূত্র বলছে, ১১ দলীয় জোট হিসেবে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে জামায়াত এককভাবে আরও বেশি সংরক্ষিত আসন পাওয়ার সুযোগ থাকলেও তারা সেটি পুরোপুরি নিজেদের কাছে রাখেনি। বরং শরিকদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়ে জোটের ভেতরে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। মোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে জামায়াত নিজে নিচ্ছে ৯টি, আর বাকি ৩টি ভাগ করে দিচ্ছে জোটের অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে।
এই সিদ্ধান্তে লাভবান হচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি, জাগপা এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস- যারা প্রত্যেকে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতা ও জোট সংহতি শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন
অন্যদিকে, আসন্ন তালিকায় শুধু দলীয় নেত্রীদেরই নয়, ভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে আসা কিছু মুখও যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে জুলাই আন্দোলনের শহীদ জারিফ আব্দুল্লাহর মা রোকেয়া বেগমের অন্তর্ভুক্তি, যা আবেগ ও প্রতীকী গুরুত্ব- দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জামায়াতের তালিকায় থাকা নারীদের বেশিরভাগই সংগঠনের অভিজ্ঞ কর্মী এবং পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত। আইন, প্রকৌশল ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে ভাষা দক্ষতা ও রাজনৈতিক জ্ঞানকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মনোনয়নে।
এদিকে জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের প্রাপ্ত আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। দলটির অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে একজন নারী নেত্রীকে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এএডি/