শাস্তিমূলক নয় বাজেট হতে হবে সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট যেন শাস্তিমূলক না হয়ে সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমূলক হয় এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স

2026-04-20T04:07:25+00:00
2026-04-20T04:08:34+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
শাস্তিমূলক নয় বাজেট হতে হবে সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমুখী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৭ এএম  আপডেট: ২০.০৪.২০২৬ ৪:০৮ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট যেন শাস্তিমূলক না হয়ে সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমূলক হয় এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ঢাকা (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আমরা একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছি। 

উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, উচ্চ সুদহার ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপ- এসব কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে গেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রত্যাশা- আসন্ন জাতীয় বাজেটটি যেন ‘শাস্তিমূলক’ না হয়ে ‘সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমুখী’ হয়।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ঢাকা (এমসিসিআই) ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ : বেসরকারি খাতের অগ্রাধিকার ও দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান। রাজধানীর লেকশোর হোটেলে গতকাল রোববার এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে কামরান টি রহমান ব্যবসায়ীদের পক্ষে আগামী বাজেটকে ঘিরে মেট্রো চেম্বারের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

মেট্রো চেম্বার ও ইআরএফ আয়োজিত এই আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্যে কামরান টি রহমান বলেন, দেশে ১ কোটি টিআইএনধারী থাকলেও তার মাত্র অর্ধেক আয়কর রিটার্ন দিচ্ছেন। এমন প্রেক্ষাপটে টিআইএন ও এনআইডি ডাটাবেজ একীভূত করা হোক। এ ছাড়া নতুনদের করভীতি দূর করতে ১০০ বা ১০০০ টাকার প্রতীকী ন্যূনতম কর দেওয়ার প্রথা চালু করা হোক। সেই কর মোবাইলে আর্থিক সেবার মাধ্যমে সহজে পরিশোধের ব্যবস্থা করা গেলে আরও বেশি মানুষ করের আওতায় আসবে। 

এমসিসিআই সভাপতি বলেন, করপোরেট কর কমানো হলেও নগদ লেনদেনের কঠোর শর্তের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাচ্ছে না। অর্থনীতির বাস্তবতায় এই শর্তটি বাতিলের অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার আরও আড়াই শতাংশ কমানো হলে নতুন বিনিয়োগ বাড়বে বলে আমরা মনে করি।

আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসের জন্য আলাদা পোর্টাল না রেখে একটি সমন্বিত ইউনিফাইড করদাতা প্রোফাইল চালুর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানি দুটোই কমাতে হবে। এ ছাড়া অনলাইন শুনানি ও ডিজিটাল নোটিস পদ্ধতি চালু করলে ব্যবসায়ীদের সময় ও খরচ বাঁচবে।

ভ্যাট ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণের দাবি জানিয়ে কামরান টি রহমান বলেন, ব্যবসায়িক গোপনীয়তা রক্ষায় মূসক ৪.৩ ফরমের মূল্যায়নের পরিবর্তে শুধু পরিমাণ উল্লেখ করার সুযোগ দেওয়া হোক। কাস্টমস পর্যায়ে ডেটাবেজ মূল্যের পরিবর্তে প্রকৃত লেনদেন মূল্য বা ট্রানজেকশন ভ্যালু অনুযায়ী শুল্কায়ন নিশ্চিত করা এবং অটোমেশন প্রক্রিয়া জোরদার করা জরুরি।

ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৫-২৬ হাজার মেগাওয়াট হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে বাস্তবে মাত্র ১২-১৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদিত হচ্ছে। গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৪০০০-৪৫০০ এমএমসিএফডি কিন্তু সরবরাহ মাত্র ৩০০০-৩২০০ এমএমসিএফডি। 

এই ১০০০ এমএমসিএফডি ঘাটতির কারণে শিল্প-কারখানাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, এলএনজি আমদানিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে ও বিশ্ববাজারে এর দামের অস্থিরতা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। আগামী বাজেটে জ্বালানির ঘাটতির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় আনতে হবে।

ইআরএফের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা বলেন, উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। শুধু বয়ান দিয়ে বিনিয়োগ হবে না। কথার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকতে হবে। ইআরএফ সভাপতি বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। 

তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও রাজস্ব ঘাটতি বর্তমান সময়ে তেল ও জ্বালানি সংকট এবং আইএমএফের সঙ্গে চলমান। চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

আগামী বাজেটে বড় অঙ্কের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলে তা বিদ্যমান করদাতাদের জন্য হয়রানির কারণ হতে পারে। দৌলত আক্তার মালা বলেন, উচ্চ আয়ের অনেকের কাছ থেকেই সঠিক পরিমাণ কর পাওয়া যাচ্ছে না এবং কর কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহারের কারণে অনেক সময় করদাতারা হয়রানির শিকার হন। এ জন্য করের এরিয়া বাড়াতে হবে, কর আদায় সহজ করতে হবে। করদাতার হয়রানি ও ট্যাক্স নেট বিষয়ে তিনি বলেন, যখনই রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়, তখন যারা নিয়মিত কর দেন তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এতে নতুন করদাতারা কর দিতে নিরুৎসাহিত হন।

প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও স্বচ্ছতায় জোর দিয়ে ইআরএফ সভাপতি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ভ্যাট সংগ্রহের জন্য ইসিআর বা ফিসক্যাল ডিভাইস ব্যবহারের কথা থাকলেও গত ১৫-১৬ বছরে এ বিষয়ে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তিনি সরকারি তথ্যের স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সঠিক উপাত্তের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের দাবি জানান।



  বিষয়:   শাস্তিমূলক  বাজেট  সহায়ক  প্রবৃদ্ধিমুখী 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: