তিন ম্যাচ সিরিজে প্রথম ওয়ানডের পর চিত্রটা একেবারেই পরিষ্কার- চাপ এখন বাংলাদেশের, আর ছন্দটা পুরোপুরি নিউজিল্যান্ডের দখলে। অনভিজ্ঞ দল নিয়েও যেভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল কিউইরা, তাতে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে তারাই এগিয়ে মানসিক লড়াইয়ে।
অন্যদিকে জয়ের খুব কাছে গিয়েও ব্যাটিং ব্যর্থতায় হোঁচট খাওয়া বাংলাদেশকে এখন ঘুরে দাঁড়াতেই হবে, না হলে সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা বাস্তব হয়ে উঠবে। এর সঙ্গে বাড়বে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার চাপও।
সফরকারীদের জন্য বৈরী হলেও প্রথম ম্যাচে কন্ডিশন দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছিল কিউইরা। মিরপুরে সকালের তাপপ্রবাহ, উইকেটের আচরণ- সবকিছুই বুঝে খেলেছে তারা। দ্বিতীয় ম্যাচেও একইভাবে উইকেট পর্যবেক্ষণ করে পরিকল্পনা সাজাতে চাইবে সফরকারীরা। ব্যাট হাতে হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, উইল ইয়াং ও টম ল্যাথামের ওপরই আবারও ভরসা থাকবে তাদের। প্রথম ম্যাচে চাপে পড়ে নিকোলসের ফিফটি এবং স্পিনের বিপক্ষে ইয়াংয়ের ব্যাটিং ছিল বড় ইতিবাচক দিক।
মিডল ও লোয়ার অর্ডারে ডিন ফক্সক্রফটদের কার্যকর অবদান দলকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয় নিউজিল্যান্ডকে। বিশেষ করে ঢাকার উইকেটে ইনিংসের শেষভাগে তার শট খেলার দক্ষতা নজর কাড়ে। বল হাতেও দারুণ শৃঙ্খল ছিল কিউইরা। ন্যাথান স্মিথ শুরুতেই দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচের ভিত গড়ে দেন। এরপর জেডেন লেনক্স ও ব্লেয়ার টিকনার মাঝের ওভারগুলোতে রানের গতি আটকে দেন। অধিনায়ক ল্যাথামও বোলারদের ব্যবহার করেছেন পরিস্থিতি বুঝে, বিশেষ করে যখনই বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে।
সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে বাংলাদেশের মূল চিন্তা ব্যাটিং। প্রথম ম্যাচে শুরুতেই তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর বিদায়ের পর সাইফ হাসান ও লিটন দাস ৯৩ রানের জুটি গড়ে আশা জাগান। কিন্তু সেটি বড় জুটিতে রূপ নিতে পারেনি। এরপর তাওহীদ হৃদয় ও আফিফ হোসেন দীর্ঘ সময় বাউন্ডারিহীন থেকে রানের চাপ বাড়িয়ে দেন, যা শেষ পর্যন্ত ধসের পথ তৈরি করে। যার ফলে শেষ দিকে নিচের সারির ব্যাটারদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়।
বোলিংয়ে অবশ্য ইতিবাচক দিক আছে বাংলাদেশের। ম্যাচের ঠিক আগে মোস্তাফিজুর রহমানের চোটে হঠাৎ সুযোগ পেয়ে ১৬ মাস পর ওয়ানডেতে ফেরা শরিফুল ইসলাম ১০ ওভারে ৪২টি ডট বলসহ ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন। তবে আজকের ম্যাচে শরিফুলের না থাকার আশঙ্কা প্রবল। ফিট থাকলে খেলবেন মোস্তাফিজ।
এ ছাড়া আরও পরিবর্তন আসতে পারে একাদশে। আফিফের জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন সৌম্য সরকার। অন্যদিকে কিউইরা উইনিং কম্বিনেশন ভাঙতে খুব একটা আগ্রহী হওয়ার কথা না, তবে তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে পেসারদের বিশ্রাম দেওয়ার চিন্তাও থাকতে পারে।
মিরপুরের উইকেট এবার ব্যাটিংয়ের জন্য কিছুটা সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ম্যাচকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে। তবে ৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দুই দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। এখন সিরিজে টিকে থাকতে হলে ব্যাট হাতে জবাব দিতেই হবে বাংলাদেশকে। নিউজিল্যান্ড চাইবে একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করতে।