উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপত্তা এখন বড় কূটনৈতিক অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে দেশের জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা।
এ প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইরানের কাছে সরাসরি অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা নিরাপদে ওই রুট অতিক্রম করতে পারে। তুরস্কের আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরারমর ফাঁকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহর সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে জানান সাঈদ খতিবজাদেহ। উভয় দেশই বিষয়টি নিয়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ায় ইরানকে ধন্যবাদও জানিয়েছে ঢাকা। বর্তমানে সীমিত কয়েকটি দেশের জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি কূটনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানও স্পষ্ট করেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান। এই অবস্থানকে ‘গঠনমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসা করেছে তেহরান।
ইরানের পক্ষ থেকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তেহরান সফরের আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গেও একই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তখনও বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
এছাড়া ইরান থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং মানবিক সহায়তা পাঠানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
এএডি/