শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত বগুড়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২০ এপ্রিল) শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকে তৈরি ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে তার সরকার।
শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, তবে আমরা সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে আমাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেছি। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়েছে, হাজারো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে আমি কথা দিচ্ছি- বিএনপি সেই সনদের প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করবে।’
এ সময় তিনি কিছু রাজনৈতিক দলের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের সমালোচনা করে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন
বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার কীভাবে বাস্তবায়ন করছে, তার একটি খতিয়ান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী-
কৃষক ও নারী উন্নয়ন: নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু হয়েছে।
ঋণ মওকুফ: দেশের প্রায় ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে সরকার।
সামাজিক উদ্যোগ: ধর্মীয় গুরুদের সম্মানীর ব্যবস্থা করা এবং শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক ‘খাল খনন’ কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে।
সংবিধান সংস্কারের নামে চলমান কিছু আলোচনার প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। যারা শুধু সংবিধান নিয়ে মাতামাতি করছেন, তারা নারী অধিকার বা সাধারণ মানুষের প্রকৃত সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন না।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, বেগম জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বিএনপির ‘৩১ দফা’ রাষ্ট্র মেরামতের মূল ভিত্তি।
নিজ জেলা বগুড়ার উন্নয়নে দুটি বড় প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী:বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ।
এএডি/