দেশের প্রখ্যাত সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গায়ক লাকী আখান্দ চিরবিদায় নিয়েছেন ৯ বছর হয়ে গেল। ২০১৭ সালের আজকের এদিনে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। দীর্ঘদিন দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি।
লাখী আখান্দ চলে গেলে গেছেন কিন্তু রেখে গেছেন তার কালজয়ী সৃষ্টি। যে সৃষ্টি আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে। দীর্ঘ সংগীতজীবনে গুণী এ শিল্পী অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন, কখনো কণ্ঠে, কখনো বা সুর দিয়ে। কখনো বাজিমাত করেছেন গান লিখে। নিজের গাওয়া গানগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা যায় ‘এই নীল মনিহার’, ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’, ‘আমায় ডেকো না’, ‘মামনিয়া’, ‘আগে যদি জানতাম’, ‘হৃদয় আমার’ গানগুলোর নাম।
অন্য শিল্পীর গান রচনা ও সংগীতায়োজন করেছেন ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’ (কুমার বিশ্বজিৎ), ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’ (সামিনা চৌধুরী), ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’ (হ্যাপী আখান্দ), ‘কে বাঁশি বাজায় রে’ (হ্যাপী আখান্দ), ‘কী করে বললে তুমি’, ‘লিখতে পারি না কোনো গান’, ‘ভালোবেসে চলে যেয়ো না’ প্রভৃতি।
লাকী আখান্দের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৮ জুন ঢাকায়। ৫ বছর বয়সেই তিনি তার বাবার কাছ থেকে সংগীতে নিয়েছেন হাতেখড়ি। লাকী আখান্দ ১৯৬৩-৬৭ সাল পর্যন্ত টেলিভিশন এবং রেডিওতে শিশুশিল্পী হিসেবে সংগীতবিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই এইচএমভি পাকিস্তানের সুরকার এবং ১৬ বছর বয়সে এইচএমভি ভারতের সংগীত পরিচালক হিসেবে নিজের নাম যুক্ত করেন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ বেতারের পরিচালক (সংগীত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
লাকি আখান্দের প্রথম একক অ্যালবাম ‘লাকি আখান্দ’ প্রকাশ পায় ১৯৮৪ সালে। তিনি ব্যান্ডদল ‘হ্যাপী টাচ’-এর সদস্য। তার ভাই অকাল প্রয়াত হ্যাপী আখান্দ ছিলেন গানের আরেক বিস্ময় পুরুষ।