ইরান যুদ্ধের পর থেকে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে শস্য ভাণ্ডারখ্যাত সিরাজগঞ্জের চলনবিল এলাকায় কৃষকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না। ফলে চলতি মৌসুমে বোরো চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা। এদিকে প্রয়োজনীয় ডিজেল না পেয়ে অনেক সময় অতিরিক্ত দামে বাইরে থেকে তেল কিনতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের বিষয়টি নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চলনবিলের তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ডিজেল সংকটের কারণে এবারের বোরো চাষাবাদে প্রভাব পড়েছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ২২ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। এলাকায় ডিজেল চালিত ৭ হাজার ১১টি সেচ পাম্প থাকলেও জ্বালানি সংকটে সেগুলো সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
চলনবিলের মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডিজেল সংকটের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তিনি চলতি মৌসুমে ৩৪ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। তার তিনটি ডিজেলচালিত সেচ পাম্প রয়েছে, যেগুলো দিয়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সপ্তাহে তিন দিন সেচ দিতে হয়। এতে প্রতিদিন প্রায় ২৫ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে সারাদিন পেট্রোল পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মাত্র ১০ লিটার তেল পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় বাইরে থেকে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে।
তিনি জানান, পাম্প থেকে ৯৬ টাকা লিটার দরে ১০ লিটার ডিজেল কেনার পর বাইরে থেকে ১৩০ টাকা লিটার দরে আরও ২০ লিটার কিনতে হয়েছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মনোহরপুর এলাকার কৃষক রাকিব হোসেন বলেন, তিনি ২৬ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। নিয়মিত সেচের প্রয়োজন হলেও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। তার নিজস্ব তিনটি সেচ পাম্প থাকলেও সেগুলো বন্ধ রেখে বর্তমানে উপজেলা কৃষি অফিসে তেলের কার্ডের জন্য অপেক্ষা করছেন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তেল না পেলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠ সেন গুপ্তা বলেন, চলনবিল এলাকায় ইতোমধ্যে কিছু জায়গায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৫ বিঘা জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি জমির ধান কাটতে আরও প্রায় ১৫ দিন সময় লাগবে। কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে তেলের কার্ড দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা পেট্রোল পাম্প থেকে প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহ করতে পারেন। তবে দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক সময় কৃষকেরা চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ.কে.এম. মনজুরে মাওলা বলেন, চলনবিল এলাকার কৃষিখাতের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ চলছে। প্রকৃত কৃষকেরা যেন সঠিকভাবে ডিজেল সংগ্রহ করতে পারেন, সে জন্য কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া পেট্রোল পাম্পে দায়িত্ব পালনকারী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলনবিল এলাকায় বোরো আবাদে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
আরবিএন