ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে কৃষিতে ক্ষয়ক্ষতি বেশি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রাথমিক হিসাবে, আমনের বীজতলা, আউশ ধান ও মৌসুমি সবজি মিলিয়ে প্রায় ৪৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে আমন আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হেক্টর আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আনুমানিক ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া, ২৩ দশমিক ৫ হেক্টর আউশ ধানের জমিতে প্রায় ১২ লাখ এবং ৪০ হেক্টর মৌসুমি সবজির জমিতে প্রায় ১৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে কৃষি খাতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
চলতি মৌসুমে উপজেলার কধুরখীল, পোপাদিয়া, কড়লডেঙ্গা, আমুচিয়া ও শাকপুরা ইউনিয়নে ব্যাপক পরিসরে আমনের বীজতলা, আউশ ধান ও মৌসুমি সবজির আবাদ হয়েছিল। তবে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
জৈষ্ঠ্যপুরা গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এবার আমনের বীজতলা নিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছি। কীভাবে আবার চাষ শুরু করব, বুঝতে পারছি না।’
কধুরখীল গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, ‘আউশের একটা ধানও ঘরে তুলতে পারিনি। ভেবেছিলাম সবজি থেকে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেব, কিন্তু সেটারও আর আশা দেখছি না।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব কৃষক তুলনামূলক কম ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি উপদেষ্টা মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘বন্যায় ব্যাপক বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকদের পুনর্বাসনে ৩২৭ মেট্রিক টন ধানবীজ প্রয়োজন হবে। সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বীজ মজুত রয়েছে। যেসব কৃষকের জমি বীজ বপনের উপযোগী হয়েছে, তাদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে বীজ সরবরাহ করা হবে। যাদের জমি এখনও প্রস্তুত হয়নি, তাদের জন্য সরকারি খালি জমিতে জরুরি ভিত্তিতে বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সেখান থেকে ধানের চারা সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।’
সময়ের আলো/মহু