নির্মাণ কাজের গুণগত মান বনাম পার্সেন্টেজ বা ‘ঘুষের’ দ্বন্দ্বে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ তলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ থমকে গেছে। ঠিকাদারের অভিযোগ, ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমিশন না দেওয়ায়, প্রকৌশলী অন্যায়ভাবে কাজে বাধা দিচ্ছেন। অন্যদিকে প্রকৌশলীর দাবি, নির্মাণ সামগ্রী অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায়, কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার এই প্রকল্পটি মাঝপথে ঝুলে রয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইডেন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রেজাউল আলম সরাসরি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ উৎকৃষ্ট মানের বালু ও পাথর সরবরাহ করা সত্ত্বেও, আমাদের বেজমেন্ট ঢালাইয়ের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। কাজের মোট বাজেটের ৫ থেকে ৭ পার্সেন্ট কমিশন না দেওয়ায়, একটি অদৃশ্য কারণে এই বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং ইচ্ছা করে কাজে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কাজে কমিশন দিলে আমাদের ব্যাপক লোকসান হবে।’
বালু ও পাথরের মান খারাপ হলে, পরিবর্তন করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
এদিকে, ঘুষের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী অরুনাভ রায়। তার দাবি, কাজের মান খারাপ হওয়াতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।
অরুনাভ রায় বলেন, ‘কাজের মান নিয়ে আমরা কোনো আপোশ করব না। ঠিকাদারের সরবরাহ করা সামগ্রী মানসম্মত নয়। তিনি যদি নিয়ম অনুযায়ী সঠিক মানের সামগ্রী সরবরাহ না করেন, তবে দ্রুতই তার কার্যাদেশ বাতিল করা হবে এবং নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।’
এদিকে, দুই পক্ষের এই রেষারেষিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ জুড়ে তৈরি হয়েছে চরম অচলাবস্থা। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের সিংহভাগ জুড়েই দিনের পর দিন পড়ে আছে বালু ও পাথরের বিশাল স্তূপ। ফলে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের প্রারম্ভিক সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি) বন্ধ রয়েছে। বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও অবাধ বিচরণ। সামান্য বাতাসে পুরো মাঠ ধুলিময় হয়ে ওঠায়, প্রতিনিয়ত নাকাল হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
এছাড়াও, নতুন ভবনের বেজমেন্ট তৈরির জন্য খনন করা গভীর গর্তে বৃষ্টির পানি জমে কৃত্রিম ডোবার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে যেমন খেলার ছলে শিশুদের পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে, তেমনি জমে থাকা নোংরা পানি পরিণত হয়েছে মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্রে।
এ ব্যপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের এই রেষারেষির কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম বেকায়দায় পড়েছে। শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। আমরা চাই, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংকটের সমাধান হোক।’
সময়ের আলো/মহু