লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আবদুল কাদের মোজাহিদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে, কাজ না করেই এবং আংশিক কাজ দেখিয়ে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের এই অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে উপজেলার ৯টি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রায় ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও, বেশিরভাগ স্কুলেই কাজ অসম্পূর্ণ রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় অনিয়ম ধরা পড়েছে চর কাদিরা কে.এম. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো কাজই শুরু করা হয়নি, অথচ ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে সম্পূর্ণ ২৮ লাখ ১০ হাজার টাকার চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউর রহমান।
এছাড়া, ৯টি বিদ্যালয়ে আধুনিক স্টিল সাটারিং ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও নিম্নমানের পুরোনো বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু স্টিল সাটারিং বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ থেকেই ৯টি প্রকল্পের প্রায় ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অনিয়মের তালিকায় থাকা বিদ্যালয়গুলো হলো চরজাঙ্গালিয়া,খাসেরহাট, মতিরহাট, হাজিরহাট মিল্লাত, চর কাদিরা কে.এম., দক্ষিণ-পূর্ব চরকাদিরা, উত্তর-পশ্চিম চরমার্টিন, পূর্ব চরফলকন ও দক্ষিণ পূর্ব চরফলকন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মোজাহিদ বলেন, ‘কিছু অনিয়ম পেয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে অবহিত করা হয়েছে।’
তবে, কাজ শেষ না করেই কেন চূড়ান্ত বিল ছাড় দেওয়া হলো, এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
সময়ের আলো/মহু