কালিহাতী এলজিইডি প্রকৌশলীর ‘কারিশমা’ : কাল্পনিক প্রকল্পে গায়েব ১০ লাখ

​কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

সারাদেশ

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বাস্তবে কোনো

2026-07-16T19:35:56+00:00
2026-07-16T19:35:56+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬,
১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
কালিহাতী এলজিইডি প্রকৌশলীর ‘কারিশমা’ : কাল্পনিক প্রকল্পে গায়েব ১০ লাখ
​কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম 
কালিহাতী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বাস্তবে কোনো কাজ না করেই সম্পূর্ণ ‘কাল্পনিক প্রকল্প’ দেখিয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারের প্রায় ১০ লাখ টাকা বিল প্রদান ও আত্মসাৎ করার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কালিহাতী এলজিইডিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে এডিপির আওতায় ‘উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরীণ রাস্তা মেরামত’ নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। কাগজে-কলমে এই কাজের দায়িত্ব পায় পাশের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া এলাকার ‘মেসার্স জামান এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। 

অভিযোগ উঠেছে, বাস্তবে উপজেলা পরিষদের ভেতরে এমন কোনো কাজই করা হয়নি। সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন এই প্রকল্পে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আক্তার হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরস্পর যোগসাজশ করে সরকারি কোষাগার থেকে ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৮৮৬ টাকা তুলে নেন। মূলত জুন ক্লোজিং (অর্থবছর শেষ)-কে কেন্দ্র করে তাড়াহুড়ো করে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। 

সরকারি নথির তথ্যানুযায়ী, গত ২৭ জুন, ২০২৬ তারিখে ৬৪ নম্বর বিল এবং ০৪৪৩৮২ নম্বর টোকেনের মাধ্যমে মেসার্স জামান এন্টারপ্রাইজের নামে চূড়ান্ত বিলটি উত্তোলন করা হয়। 

এ বিষয়ে কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আক্তার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে সাংবাদিকদের উল্টো প্রশ্ন করেন। পরবর্তীতে তাকে সুনির্দিষ্ট বিল নম্বর, তারিখ ও টোকেন নম্বর দেখালে তিনি সুর নরম করে অফিসে এসে কথা বলার অনুরোধ জানান।


অন্যদিকে, কালিহাতী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন টাকা তোলার বিষয়টি স্বীকার করে এক অদ্ভুত দাবি করেন। তিনি বলেন, বিল উত্তোলন করে টাকা জমা রাখা হয়েছে, ঠিকাদারকে এখনও পরিশোধ করা হয়নি। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কাজ সম্পন্ন না করে কিংবা ঠিকাদারকে না দিয়ে সরকারি বিল ব্যাংক থেকে তুলে এভাবে নিজের কাছে ‘জমা রাখার’ কোনো আইনি এখতিয়ার বা সুযোগ কোনো কর্মকর্তার নেই।

এদিকে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স জামান এন্টারপ্রাইজ’ এর স্বত্বাধিকারী হিসেবে এস. এম. কামরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির নাম জানা গেলেও রহস্যজনকভাবে কালিহাতী এলজিইডি কার্যালয় ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো ফোন নম্বর বা যোগাযোগের ঠিকানা সরবরাহ করতে পারেনি। কোনো কাজ না করে সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা লোপাটের এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষ আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   কালিহাতী  এলজিইডি প্রকৌশলী  কারিশমা  কাল্পনিক প্রকল্প  গায়েব 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: