নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিধবা ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন খতিজা বেগম নামের এক অসহায় বৃদ্ধা। ঘটনাটি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে নিজের পক্ষ থেকে ওই বৃদ্ধাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী খতিজা বেগম হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিধবা ভাতা পেয়ে আসছেন। সর্বশেষ কিস্তির টাকা তোলার সময় এক প্রতারক তার সরলতার সুযোগ নিয়ে কৌশলে পুরো টাকাই হাতিয়ে নেয়। একমাত্র সম্বল হারিয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েন এই বৃদ্ধা।
পরবর্তীতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে খতিজা বেগম আঞ্চলিক ভাষায় আকুতি জানান, ‘আব্বা, আঁর তো ব্যাক লই গেছে গই, আঁই অন কেন্নে চলমু।’ অসহায় এই বৃদ্ধার কান্না দেখে আবেগাপ্লুত হন ইউএনও মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল।
তিনি বৃদ্ধাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘আপনার টাকা আমার কাছেই আছে’ এবং নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তাকে সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। ইউএনওর এই মানবিক আচরণে মুহূর্তেই বৃদ্ধার মুখে হাসি ফোটে।
হাতিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল এখানে যোগদানের পর থেকে সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। অসহায়, দরিদ্র ও বিপদ্গ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
এ বিষয়ে ইউএনও মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল বলেন, ‘সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারক চক্র ওই বৃদ্ধার ভাতার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমি মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সরকারি ভাতাভোগীদের লক্ষ্য করে প্রতারক চক্র নানা কৌশলে সক্রিয় রয়েছে। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোনো অপরিচিত ব্যক্তির হাতে কার্ড, মোবাইল ফোন, পিন নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া যাবে না। কেউ প্রতারণার শিকার হলে তা দ্রুত প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
সময়ের আলো/জেডি