ঝালকাঠিতে একাধিক দেওয়ানি ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সংকটের কারণে বিচারিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় একদিকে যেমন মামলার জট জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, অন্যদিকে বিচারপ্রার্থীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। বিদ্যমান অল্প কয়েকজন বিচারককে একাধিক আদালতের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ঝালকাঠি জেলা জজ আদালত সূত্রে জানা গেছে, নলছিটি দেওয়ানি আদালতের বিচারক মো. হাবিবুর রহমান গত বছরের ২৮ অক্টোবর বদলি হওয়ার পর দীর্ঘ ৯ মাস ধরে পদটি শূন্য রয়েছে।
একইভাবে, কাঠালিয়া দেওয়ানি আদালতের বিচারক রানা পারভেজ গত জানুয়ারিতে বদলি হওয়ার পর থেকে ৭ মাস ধরে ওই পদটিও খালি। বর্তমানে ঝালকাঠি সদরের সিনিয়র সিভিল জজ মো. আরিফ হোসেন নলছিটির এবং রাজাপুরের বিচারক রানা পারভেজ কাঠালিয়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে বিচারকেরা শুধু জরুরি দরখাস্তের শুনানি করতে পারছেন। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি মাসে অন্তত ছয়টি মামলা নিষ্পত্তি করা বাধ্যতামূলক হলেও, বাড়তি চাপের কারণে এই দুই আদালতের সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক শুনানি পুরোপুরি থমকে গেছে।
এছাড়া আলাদা পারিবারিক আদালত গঠন করা হলেও ঝালকাঠিতে কোনো স্থায়ী বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
অনুরূপ সংকট চলছে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও। এখানে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পদ খালি। বর্তমানে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম কবির হোসেন এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন কবির ভাগাভাগি করে জেলার সবকটি আমলী ও বিচারিক আদালতের কাজ চালাচ্ছেন। ফলে এসব আদালতেও নিয়মিত শুনানি না হওয়ায় মামলার পাহাড় জমছে।
ভুক্তভোগী বিচারপ্রার্থী ইমাম হোসেন (৫২) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাঁচ বছর ধরে পারিবারিক জমি নিয়ে একটি দেওয়ানি মামলা চালাচ্ছেন। কিন্তু বিচারক সংকটে মামলা না এগোনোয় তার অর্থ ও সময় দুটোই নষ্ট হচ্ছে।
ঝালকাঠি প্রতিবাদী মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত হরি বলেন, দ্রুত শূন্য পদে বিচারক নিয়োগ না দিলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।
ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেল আকন জানান, বিচারক সংকটের কারণে প্রতিদিন নির্ধারিত মামলার শুনানি শেষ করা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষকে বারবার আদালতে এসে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। সংকটের বিষয়টি জেলা জজের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করছেন তিনি।
সময়ের আলো/জেডি