ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজ্যটিতে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৯২ শতাংশ। ভারতের নির্বাচন কমিশনের দাবি, স্বাধীনতার পর এটিই সর্বোচ্চ ভোটের হার।
দ্য হিন্দু জানায়, বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপে ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাত ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাবে ভোট পড়েছে ৯১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ভারতের নির্বাচন কমিশন এই হারকে ‘স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে চূড়ান্ত হিসাব এখনও ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন।
সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরে। সেখানে ভোটের হার ৯৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এরপর কুচবিহারে ৯৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং বীরভূমে ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
প্রথম ধাপে ভোট হওয়া ১৬ জেলার প্রায় সবকটিতেই ভোটার উপস্থিতি ৮২ শতাংশের বেশি ছিল। এই ধাপে ২৯৪ আসনের বিধানসভার ১৫২টি আসনে মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে।
ভোটগ্রহণের প্রথম দিন কিছু সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসানসোল দক্ষিণ আসনে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পলের গাড়িতে রহমান নগরের কাছে পাথর ছোড়া হয়, এতে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়।
কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার অভিযোগ করেছেন, তার এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা হামলা চালিয়ে তাকে আহত করে এবং তার গাড়ি ভাঙচুর করে।
মুর্শিদাবাদেও উত্তেজনা দেখা যায়। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে এলাকায় আসা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একই জেলার ডোমকলে কয়েকজন ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছে।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাডু রাজ্যে আজ অনুষ্ঠিত ভোটে ব্যাপক ভোটার অংশগ্রহণের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাডুতে এটাই সর্বোচ্চ ভোটের হার। প্রতিটি ভোটারকে আমরা স্যালুট জানাই।’
দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২৯ এপ্রিল কলকাতা ও আশপাশের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ভোট গণনা হবে আগামী ৪ মে।
সময়ের আলো/জেডআই