১৫ বছর পর একক অ্যালবাম নিয়ে এলেন সংগীতশিল্পী আলিফ আলাউদ্দীন। সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে তার চতুর্থ অ্যালবাম। ‘আলিফ আলাউদ্দীন’ সেল্ফ টাইটেল শিরোনামে অ্যালবামটিতে রয়েছে ছয়টি নতুন গান।
ইতিমধ্যে গানগুলোর লিরিক ভিডিও এবং একটি গানের মিউজিক ভিডিও আলিফ আলাউদ্দীনের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হয়েছে। গানগুলো শোনা যাবে স্পটিফাইতেও।
অ্যালবাম প্রসঙ্গে আলিফ আলাউদ্দীন বলেন, ২০১১ সালে ‘কল্পনাতে’ প্রকাশের পর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব ব্যস্ত হয়ে পড়ি। মা এবং আমি পরপর দুজনেই অসুস্থ ছিলাম। মাঝে করোনায়ও দুই বছর চলে গেল। এর মধ্যে বাবা-মা দুজনেই মারা গেলেন। সব মিলিয়ে সময় মেলাতে পারছিলাম না। এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলেই অ্যালবাম করলাম।
অ্যালবামের গানগুলো নিয়ে তিনি বলেন, অ্যালবামে মোট ৬টি গান। এর মধ্যে চারটি গান মৌলিক, যার দুটি গান আমার লেখা, অন্য দুটি আমার স্বামী কাজী ফয়সাল আহমেদের। ৬টি গানের বাকি দুটি গান ‘দেখো তো আমায়’ ও ‘কাগজ আছে কলম আছে’ আমার মা সালমা সুলতানার গাওয়া। গান দুটি নতুন করে রিমেক করেছি। ‘দেখো তো আমায়’ কাওসার আহমেদ চৌধুরীর লেখা, আইয়ুব বাচ্চুর সুর করা, ‘কাগজ আছে কলম আছে’ মনিরুজ্জামান মনিরের, সুর করা আমার বাবা আলাউদ্দীন আলীর। এই গান দুটি নতুন করে সংগীতায়োজনসহ সবগুলো গানের সংগীতায়োজন করেছেন কাজী ফয়সাল আহমেদ।
এবারের অ্যালবামের গানগুলো একেকটা একেক রকমের। কোনোটি পিয়ানোতে করা, কোনোটি পার্টি সং, আবার কোনোটি ডিসকো আর রক। অ্যালবাম রেকর্ড হয়েছে ‘ফেইস দ্য মিউজিক’ স্টুডিওতে।
ইউটিউবের যুগে একক গান প্রকাশ না করে অ্যালবাম করার বিষয়ে আলিফ বলেন, চাইলে আমি এই ছয়টি গান একটা একটা করে প্রকাশ করতে পারতাম। কিন্তু অ্যালবাম একজন শিল্পীকে পরিপূর্ণ করে। এ ছাড়া নস্টালজিক ব্যাপারটা কাজ করে। আমার মনে হয়, সেই সময়ের শ্রোতারাও আমার সিদ্ধান্তে খুশি হয়েছেন। একটা গান প্রকাশিত হলে শ্রোতাদের ভালো না লাগলে অন্য গান শোনার অপশন থাকে না। অ্যালবাম হলে সেই সুযোগ থাকে। একটা ভালো না লাগলে অন্যটা শুনতে পারেন।
আলিফ আলাউদ্দীনের চতুর্থ অ্যালবাম প্রকাশ উপলক্ষে সম্প্রতি রাজধানীর একটি ক্লাবে এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, আবিদা সুলতানা, রেবেকা সুলতানা, হামিন আহমেদ, ফোয়াদ নাসের বাবু, বাপ্পা মজুমদার, শওকত আলী ইমন, শেখ মনিরুল আলম টিপুসহ সংগীতাঙ্গনের অনেকে।
এফআর