গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে আসছেন না ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তার মুখমণ্ডল ও ঠোঁট মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় তিনি বর্তমানে কথা বলতে পারছেন না বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এদিকে, তেহরানে সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বের অভাবে শান্তি আলোচনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
৫৬ বছর বয়সী খামেনি নিজেকে ‘অসহায় বা দুর্বল’ হিসেবে দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করতে চান না বলেই কোনো অডিও বা ভিডিও বার্তা দিচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হামলায় খামেনির একটি পা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে ইতোমধ্যে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি একটি কৃত্রিম পায়ের (প্রস্থেটিক) জন্য অপেক্ষা করছেন। এছাড়া তার একটি হাতেও অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দগ্ধ মুখমণ্ডলে প্লাস্টিক সার্জারি করা প্রয়োজন হওয়ায় খামেনির কথা বলা এখন প্রায় অসম্ভব। ইসরায়েলি গোয়েন্দারা তার অবস্থান শনাক্ত করে ফেলে- এই ভয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন না। ফলে বর্তমানে ইরানের বেসামরিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের চেয়ে সামরিক জেনারেলরাই বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গোপন আস্তানা থেকে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে এক অদ্ভুত ও প্রাচীন পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন খামেনি। গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো হাতে লিখে খামে সিলগালা করে দেওয়া হয়। এরপর বিশ্বস্ত কুরিয়ারদের একটি দীর্ঘ শিকলের মাধ্যমে তা এক হাত থেকে অন্য হাতে পৌঁছে যায়। গাড়ি বা মোটরসাইকেলে করে মহাসড়ক ও গ্রামের মেঠোপথ পাড়ি দিয়ে এই বার্তাগুলো তার গোপন আস্তানায় পৌঁছায় এবং একই প্রক্রিয়ায় তার নির্দেশনা ফিরে আসে।
/কহু