চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের সুখছড়ি খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন পারাপার করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পহর চাঁন্দা, খেদার ঘোনা ও মাইল্লাকাটা এলাকায় বসবাসরত মানুষদের যাতায়াতের জন্য সুখছড়ি খালের ওপর কোনো স্থায়ী সেতু নেই। ফলে পশ্চিম পহর চাঁন্দা-কলাউজান জয়নগর সড়কে চলাচলের একমাত্র ভরসা এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। বর্ষা মৌসুমে খালের পানির স্রোতে প্রায়ই সাঁকোটি ভেঙে যায়, তখন যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এ সাঁকো ব্যবহার করেই পহরচাঁন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয়, গৌড়স্থান আখতারুল উলুম দাখিল মাদরাসা, কলাউজান এয়াকুব বজলুর রহমান সিকদার উচ্চ বিদ্যালয়, কলাউজান দারুচ্ছুন্নাহ আলিম মাদ্রাসা এবং পহরচাঁন্দা আহমদিয়া নূরানি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। ঝুঁকিপূর্ণ এই পথে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
এছাড়া গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী পরিবহন এবং কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিকল্প কোনো নিরাপদ পথ না থাকায় পশ্চিম পহরচাঁন্দা এলাকার মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সাঁকো।
পহরচাঁন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবছার উদ্দিন বলেন, বর্ষাকালে সাঁকোটি প্রায়ই ভেঙে যায়। তখন এলাকাবাসীকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরে এমচর হাট হয়ে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার কমে আসবে।
পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, সুখছড়ি খালের ওই স্থানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ জানান, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সুখছড়ি খালের ওপর প্রায় ৩০ মিটার দীর্ঘ একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।