সৌদি আরবে মৃত্যুবরণকারী প্রবাসী কাইয়ুম পাহলোয়ানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার নিগুয়ারী ইউনিয়নের পাতলাশি গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত কাইয়ুম পাহলোয়ান ওই গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় একই গ্রামের রনি আকন্দের মাধ্যমে সাড়ে ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে প্রায় দেড় বছর আগে তিনি সৌদি আরবে যান।
পরিবার জানায়, সৌদি যাওয়ার পর দীর্ঘদিনেও তিনি আকামা বা বৈধ কাজের অনুমতি পাননি। পরে স্থানীয় এজেন্টের পরামর্শে কোম্পানিতে কাজের আশায় আরও এক লাখ টাকা ধার করে পাঠানো হয়। কিন্তু কাজ না পেয়ে অসুস্থ হয়ে গত ১৫ এপ্রিল সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের একটি বাসভবনে মারা যান তিনি। ওই রাতেই এক প্রবাসী ফোনে পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানান।
কাইয়ুমের মৃত্যুর পর স্ত্রী সালমা আক্তার ও দুই সন্তান ফাহিম (৭) ও ওমর (৬) চরম বিপাকে পড়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু এবং প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার ঋণের বোঝায় দিশেহারা স্বজনরা। বর্তমানে মরদেহ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা রয়েছে।
স্ত্রী সালমা আক্তার বলেন, আমার স্বামীর লাশটা যেভাবেই হোক দেশে আনার ব্যবস্থা করা হোক। আমার বাচ্চাদের বাবার মুখটা শেষবার দেখতে চাই।
নিহতের পরিবার দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা, দাফনের ব্যবস্থা এবং এজেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।