পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ড ৯২ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি জয়ের দাবি।
১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে জয়ের দাবি তুলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অন্যদিকে ১৩৫ আসনে জয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা জয়ের পর দিল্লি দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রথম দফার ভোট শেষে দুই শিবিরের আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে নির্বাচনী ময়দানে উত্তাপ এখন তুঙ্গে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) কলকাতার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি নেতা অমিত শাহ প্রথম দফার উচ্চ ভোটার উপস্থিতিকে (৯২.০৩ শতাংশ) ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন।
১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১১০টিরও বেশি আসনে জয় পাবে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বাংলার মানুষ ভয় থেকে আস্থার দিকে যাত্রা শুরু করেছে। স্বাধীনতা-উত্তরকালে বাংলায় এটাই প্রথম নির্বাচন, যেখানে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া এখানে প্রবল। অনেকদিন পর নারীরা নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন। তাঁরা সকলে দুর্নীতি থেকে মুক্তি চান।’ এ ছাড়া অনুপ্রবেশ রোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং নারীর নিরাপত্তার ওপর জোর দেন তিনি।
এদিকে কলকাতার চৌরঙ্গী এলাকায় বৃহস্পতিবার এক নির্বাচনি সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলায় তৃণমূলকে হারানো অসম্ভব। মমতা বলেন, ‘আগে বাংলায় জিতব, তার পর সব বিরোধী দলকে একজোট করে দিল্লি দখল করব।’
অন্যদিকে শুক্রবার হাওড়া ময়দান মেট্রো চ্যানেলের জনসভায় তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘এত গর্জন বাংলায় এসে করছেন যেন মনে হচ্ছে সব সিটে আপনি জিতে গেছেন। এত গর্জন করছেন না, এই গর্জনের কী ফল হয় আপনাকে আমরা আগেও দেখিয়েছি। এবার আমরা ১৩৫টি আসনে জয় পাব।’
মমতার দিল্লি যাওয়ার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার অমিত শাহ হেসে বলেন, ‘বাংলাতেই ওনার আর কিছু অবশিষ্ট নেই। তিনি কীভাবে দিল্লিতে আসবেন? আমি আর কী-ই বা বলতে পারি।’
এদিকে প্রথম দফার ভোটে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে রেকর্ডসংখ্যক ভোট পড়েছে। বাংলার তিন কোটি ৬০ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৯২ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। এ হার ২০২১ সালের পরিসংখ্যানকেও ছাড়িয়ে গেছে।
আগামী বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সময়ের আলো/জেডআই