নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছেলের হাতে প্রকাশ্যে নির্যাতনের অপমান সইতে না পেরে এক বাবার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে ওই ছেলের নির্যাতন ও মামলার চাপে বাড়িছাড়া হয়েছেন বৃদ্ধা মা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের আদর্শ সমাজ এলাকায়।
ভুক্তভোগী বিবি খোদেজা (৬৫) ওই গ্রামের প্রয়াত আবুল খায়েরের স্ত্রী। অভিযুক্ত জাকির হোসেন (৪২) তার তৃতীয় ছেলে।তিনি জেলা জজ আদালতের এক আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন বিভিন্ন কৌশলে নিজের পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছেন। ২০০৭ সালে মাকে জামিনদার করে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি। পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে আবারও মায়ের নামে ৬ লাখ টাকা ঋণ নেন। ঋণ পরিশোধ না করায় ২০২২ সালে পুলিশ বিবি খোদেজাকে গ্রেপ্তার করে। পরে স্বামীর জমি বিক্রি করে ঋণ শোধের পর তিনি মুক্তি পান।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় জাকির তার বাবা আবুল খায়েরকে একাধিকবার প্রকাশ্যে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২২ সালের ১০ এপ্রিল এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আবুল খায়ের। তবে কোনো প্রতিকার না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। পরে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে লজ্জা ও অপমানে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের।
স্বামীর মৃত্যুর পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন জাকির হোসেন। তিনি মাকে নির্যাতনসহ ভাইবোনদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করতে থাকেন। নিরুপায় হয়ে গত বছরের ৭ মার্চ ছোট ছেলে ইকবাল হোসেনকে নিয়ে সোনাপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠেন বিবি খোদেজা। সেখানেও তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সুধারাম মডেল থানায় জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। এর আগেও থানায় সাধারণ ডায়েরি ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেন তিনি।
বিবি খোদেজা বলেন, ছেলের অপমান সহ্য করতে না পেরে আমার স্বামী মারা গেছেন। আমি এখন ন্যায়বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, কিন্তু কোথাও বিচার পাচ্ছি না।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত জাকির হোসেন পেশাগত প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারকে জিম্মি করে রেখেছেন। এ বিষয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি।
অভিযুক্ত জাকির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার মাকে ভুল বোঝানো হয়েছে। আমি কিছু ভুল করেছি, প্রয়োজনে মায়ের কাছে ক্ষমা চাইব।
নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন মাসুদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তার আইনজীবী সহকারীর পরিচয়পত্র বাতিল করা হতে পারে।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়র মোহাম্মদ আরিফ হোসেন জানান, মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।