লোকে লোকারণ্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠ ও আশপাশের এলাকা। বসেছে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর। মাঠের মাঝখানে সুসজ্জিত রিং। চারপাশে হাজার হাজার মানুষ। ঢোলের তালে তালে আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসিত নজর রিংয়ের ভেতর থাকা দুই বলীর লড়াইয়ে। টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ‘বাঘা’ শরীফের লড়াই দেখে চারদিকে চলতে থাকে হর্ষধ্বনি। এরই মধ্যে নিজের শক্তি আর কৌশলে প্রতিদ্বন্দ্বী বলীকে পরাস্ত করে জয়ের পাখায় নতুন পালক যুক্ত করেন কুমিল্লার মো. শরীফ ওরফে ‘বাঘা শরীফ’ বলী।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে এমনই ছিল নগরের লালদীঘি মাঠের চিত্র।
এদিন বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রিংয়ে শুরু হয় এবারের বলীখেলা। মোট ১১৭ জন বিভিন্ন বয়সের বলী এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই দুই বলীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। প্রায় ২৪ মিনিট চলে তাদের লড়াই। এসময় কেউ কাউকে ছাড় দেননি। তবে শেষ পর্যন্ত ‘বাঘা’ শরীফের কাছে পরাজিত হন কুমিল্লা রাশেদ বলী।
এর আগেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এই দুই বলী ফাইনাল ম্যাচে লড়াই করেন। সেগুলোতেও ‘বাঘা’ শরীফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, ১৯০৯ সালে বকশিরহাটের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবসমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে এই বলীখেলার প্রচলন করেন। প্রতিবছর বাংলা ১২ বৈশাখে অনুষ্ঠিত এই বলীখেলাকে ঘিরে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা বসে।