ছুটির দিনে সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে। সরকারি তথ্য বলছে, শনিবার বিদ্যুতের চাহিদা ছিল শুক্রবারের চেয়ে কিছুটা বেশি, তবে বৃহস্পতিবারের চেয়ে কম। তা সত্ত্বেও লোডশেডিংয়ের তীব্রতা কমেনি। খোদ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গ্রামের মতো বারবার লোডশেডিং হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) বলছে, গত বৃহস্পতিবারের চেয়ে শুক্রবার গড়ে এক হাজার মেগাওয়াট চাহিদা কম ছিল। আর শনিবার চাহিদা কিছুটা বাড়লেও বৃহস্পতিবারের মতো ১৭ হাজার মেগাওয়াট হয়নি। এতদিন গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও শুক্র ও শনিবার ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বারবার লোডশেডিং হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তবে পিজিসিবির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য মতে, শনিবার দুপুর ১টায় উৎপাদিত হয়েছে ১২ হাজার ৭৭৭ মেগাওয়াট। কিন্তু দিনের বেলা চাহিদা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। আর সন্ধ্যায় পিক টাইমে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। সে হিসেবে ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস ও তেলের স্বল্পতায় প্রায় পাঁচ হাজার মেগাওয়াট এবং মেরামত ও সংরক্ষণের অভাবে প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আসছে না। গ্রামের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও লোডশেডিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রাজধানীতে শনিবার লোডশেডিং বেড়েছে।
পিডিবি জানিয়েছে, ছুটির দিন হলেও অতিরিক্ত গরমের কারণে চাহিদা ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। দুয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি হবে এবং গরম কমলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে, ফলে লোডশেডিং কমবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৬ এপ্রিল থেকে আদানি পাওয়ার থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ আবারও পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বাঁশখালীর এসএস পাওয়ারের আইপিপি প্লান্ট থেকে ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ ২৮ এপ্রিল থেকে স্বাভাবিক হতে পারে।
খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের প্রাক্কলন অনুযায়ী জ্বালানি সংকটের কারণেই চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়নি। এতে দেশজুড়ে চলা প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে মানুষ নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের কষ্ট অবর্ণনীয়। কারণ, পল্লী অঞ্চলে এলাকাভেদে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রচণ্ড গরমে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, প্রেক্ষাপট অনুযায়ী চলতি মাসে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়াতে পারে। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে সব ধরনের চেষ্টা করছে।
কিন্তু উৎপাদন পরিকল্পনা থাকলেও জ্বালানি ঘাটতির কারণে তা পূরণ করা কঠিন। গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে হলে দিনে ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দরকার। যদি ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাসও সরবরাহ করা হয়, তা হলে ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে ৯২ কোটি ঘনফুট। তারপরও গ্যাস ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।
শনিবার দুপুরে ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদিত হলেও রাত ৩টায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করা হয়েছে। কয়লায় উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া বেশি চাহিদার সময়ে খরুচে তেলভিত্তিক উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আদানি ও এসএস পাওয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াবে। এ ছাড়া আগামী মাসের শুরুতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে। বৃষ্টিও হবে, তখন এমন পরিস্থিতি থাকবে না। ততদিন সাশ্রয়ী হতে হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা বলেন, ‘২৮ এপ্রিল থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা পাব, যাতে সংকট খানিকটা কমবে। এ ছাড়া জ্বালানি সংকটে আরএনপিপির বন্ধ ইউনিটটি চালু হলে সব মিলিয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে।’
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আদানি পাওয়ার প্লান্ট আমাদের যে সরবরাহ করত, তাদের একটি ইউনিটে সমস্যা হওয়ায় এখন অর্ধেক দিতে পারছে। বাঁশখালীর এসএস পাওয়ারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তাদের সবার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আশা করছি, সপ্তাহ খানেকের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
সময়ের আলো/আআ