চলচ্চিত্র নির্মাণের নামে ১৩ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া নিজের বাবা দেব প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও সে বিষয়ে নিজের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করলেন চিত্রনায়িকা পূজা চেরী। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে এ ব্যাপারে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে তিনি লিখেছেন, ‘সম্প্রতি আমার বাবা দেব প্রসাদ রায়ের গ্রেফতার এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগে যে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও শুভাকাক্সক্ষীদের কাছ থেকে আমি অসংখ্য ফোনকল ও বার্তা পাচ্ছি। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তি এড়াতে আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।
আমার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে আমি মিডিয়াতে কাজ করছি এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার ও জীবনযাপনের খরচ সম্পূর্ণভাবে নিজেই নির্বাহ করে আসছি। আমার বাবার কোনো ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। এমনকি আমি বর্তমানে কোনো প্রোডাকশন হাউস বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গেও যুক্ত নই।
একজন শিল্পী হিসেবে আমি সবসময় দর্শকদের ভালোবাসা এবং সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছি। পরিবারের সদস্য হওয়ার সূত্রে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি আমার জন্য মানসিকভাবে কষ্টদায়ক, তবে এটি একান্তই তার ব্যক্তিগত আইনি বিষয়।
আমি আশা করি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং সত্য উদঘাটিত হবে। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে, বিষয়টি আদালত দেখবেন এবং সিদ্ধান্ত নেবেন। এই স্পর্শকাতর সময়ে অহেতুক আমাকে বা আমার কাজকে এই ঘটনার সঙ্গে না জড়ানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আমি আমার দর্শক ও শুভাকাক্সক্ষীদের পাশে চাই।’
প্রসঙ্গত, ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়ের হওয়া এক প্রতারণার মামলায় শনিবার পূজার বাবাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৩ কোটি টাকা প্রতারণার এই মামলাটি করেছেন ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চলচ্চিত্র প্রযোজনার ব্যবসার কথা বলে টাকা নিলেও তা করা হয়নি এবং দীর্ঘদিন পার হলেও কোনো টাকা ফেরত দেননি দেব প্রসাদ। টাকা চাইলে নানা ধরনের টালবাহানা করেন এবং পরে হুমকি দিতে থাকেন।
এতে তার সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মোট ১৩ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
/কেএইচও